আনোয়ারায় মা-মেয়ের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদঃ সহপাঠী প্রিয়ন্তীর খুনির ফাঁসির দাবিতে উত্তাল স্কুল প্রাঙ্গণ
ইতিমধ্যেই আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পটিয়া থেকে ঘাতক লিমনকে রক্তমাখা ছুরি ও লুণ্ঠিত মোবাইলসহ গ্রেপ্তার করেছে।
ফটো: সংগৃহীত
আনোয়ারায় মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং প্রধান ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের মাহাতা পাটনিকোঠা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। নিহত প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬) ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও প্রিয়ন্তীর সহপাঠীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় প্রিয়ন্তীর সহপাঠী ও শিক্ষকেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ওষখাইন পূর্ব কন্যারা গ্রামের চেনামতি বড়ুয়াপাড়ায় ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচারী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা লিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয়র দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত গভীর রাতে নিজ ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে। এ সময় খুনি লিমনের হাত থেকে রেহাই পায়নি এনি বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সী শিশুপুত্র পিয়াস বড়ুয়াও। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয় ঘর থেকে।
ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন।
নিহত নারীর স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, আপন চাচাতো ভাই লিমনের সাথে তাঁর ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার লেনদেন ছিল, যার একটি আইনি স্ট্যাম্প তাঁর কাছে গচ্ছিত ছিল।
মূলত ওই পাওনা টাকার দলিলটি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে ঘরে ঢুকে এই তাণ্ডব চালায় লিমন।
ইতিমধ্যেই আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পটিয়া থেকে ঘাতক লিমনকে রক্তমাখা ছুরি ও লুণ্ঠিত মোবাইলসহ গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, আসামির জবানবন্দি ও তদন্তের মাধ্যমে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সব তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করা হবে।