আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুনঃ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান ঘাতক তেজ গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি ও মোবাইল উদ্ধার
টাকা ধারের আইনগত স্ট্যাম্প হাতিয়ে নিতেই তাঁর চাচাতো ভাই তেজু বড়ুয়া এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ সুজন বড়ুয়ার।
ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া | ফটো: সংগৃহীত
পরৈকোড়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে জোড়া খুনের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই মূল ঘাতক লিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয়কে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) রাতে পাশ্ববর্তী পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং নিহত গৃহবধূর লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনা ও আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটিয়ায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালান। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন বড়ুয়া মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পটিয়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহত এনি বড়ুয়ার মোবাইল এবং ঘটনাস্থলের পাশের খালের পাড় থেকে রক্তমাখা ঘাতক ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওষখাইন পূর্ব কন্যারা গ্রামের চেনামতি বড়ুয়াপাড়ায় ঘরের ভেতর এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার দশম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে (১৬) নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলায় গুরুতর জখম হয় এনি বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সী শিশুপুত্র পিয়াস বড়ুয়া। ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। এই নৃশংস জোড়া খুনের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেছেন, আপন চাচাতো ভাই লিমনের সাথে তাঁর ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার লেনদেন ছিল, যার একটি আইনি স্ট্যাম্প সুজনের কাছে গচ্ছিত ছিল। মূলত ওই পাওনা টাকার দলিলটি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে ঘরে ঢুকে এই তাণ্ডব চালায় লিমন।
সাধারণত ক্লুলেস জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘ সময় লাগলেও আনোয়ারা থানা পুলিশের এমন দ্রুত ও পেশাদার অ্যাকশনে স্বস্তি প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনপদ ও নিহত প্রিয়ন্তীর সহপাঠীরা। আসামিকে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।