চট্টগ্রামে আলোচিত শীর্ষসন্ত্রাসী ডেভিড ইমন অবশেষে গ্রেফতার
ডিডিএন'-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ১৩ জুলাই ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০-৪০ জনের এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়।
সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন | ফটো: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ টিমের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। সাধারণ জীবনযাপন করলেও একপর্যায়ে দুবাই প্রবাসী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দিয়ে বাহিনীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হয়ে ওঠেন তিনি। বিদেশ থেকে ফোন করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন ইমন; চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে হামলা চালানোর মতো ঘটনা ঘটানো হতো।
সম্প্রতি হাতে বিদেশি পিস্তলসহ তার একাধিক ছবি ও হুমকির অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন তিনি।
সর্বশেষ গত ১১ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'ডিডিএন'-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ১৩ জুলাই ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০-৪০ জনের এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়। সন্ত্রাসীরা অফিসের সরঞ্জাম ভাঙচুর করার পাশাপাশি ড্রয়ার ও ব্যাগ থেকে কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর সিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান শুরু করে এবং পরিশেষে তাকে যশোরে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।