চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট, স্তব্ধ জনজীবন
অপরদিকে পাহাড়তলীসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুলায় গ্যাস না থাকায় দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও গৃহস্থালি কাজ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
ফটো: সংগৃহীত
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে চট্টগ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসা-বাড়ির চুলায় গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাধ্য হয়ে অনেককে লাকড়ির চুলায় রান্না সারতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র গণপরিবহন সংকট। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত চালক ও যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে চরম ক্ষোভ ও বাগবিতণ্ডা।
সরেজমিনে নগরীর কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা যায়, পর্যাপ্ত গ্যাসের প্রেশার না থাকায় শত শত গাড়ি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। চালকদের অভিযোগ, গ্যাস নিতেই প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা সময় পার হয়ে যাওয়ায় দৈনিক আয়ের ওপর বড় প্রভাব পড়ছে, যার ফলে তাঁরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন।
অপরদিকে পাহাড়তলীসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুলায় গ্যাস না থাকায় দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও গৃহস্থালি কাজ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সেখান থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চল।
কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন গ্রাহকের মধ্যে ২০৪টি ক্যাপটিভ পাওয়ার ও ৯৬২টি শিল্প কারখানা রয়েছে। শিল্পখাতে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ক্যাপটিভ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে চট্টগ্রামের শিল্প উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।