ব্রেকিং
‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা পুলিশের রহস্য উদঘাটনঃ ধারের টাকা ও স্ট্যাম্পের জেরে আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুন আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুনঃ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান ঘাতক তেজ গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি ও মোবাইল উদ্ধার ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল পাওনা টাকার লিখিত স্ট্যাম্প হাতিয়ে নিতেই আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যাঃ অভিযোগ গৃহকর্তার নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য বর্ণবাদীঃ নাহিদ ইসলাম দুবাইতে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, মৃত্যুর আগে ঘাতকের নাম জানালেন স্ত্রী সরকার জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করছেঃ চট্টগ্রামে ডা. শফিকুর রহমান গুজবের ফাঁদে প্রধানমন্ত্রীঃ ভুয়া ফটোকার্ডের তথ্যে সংসদে বিরোধী দলকে টার্গেট ‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা পুলিশের রহস্য উদঘাটনঃ ধারের টাকা ও স্ট্যাম্পের জেরে আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুন আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুনঃ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান ঘাতক তেজ গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি ও মোবাইল উদ্ধার ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল পাওনা টাকার লিখিত স্ট্যাম্প হাতিয়ে নিতেই আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যাঃ অভিযোগ গৃহকর্তার নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য বর্ণবাদীঃ নাহিদ ইসলাম দুবাইতে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, মৃত্যুর আগে ঘাতকের নাম জানালেন স্ত্রী সরকার জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করছেঃ চট্টগ্রামে ডা. শফিকুর রহমান গুজবের ফাঁদে প্রধানমন্ত্রীঃ ভুয়া ফটোকার্ডের তথ্যে সংসদে বিরোধী দলকে টার্গেট
রাজনীতি ব্রেকিং

‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা

ডেস্ক রিপোর্ট ১৫ জুন ২০২৬ বিকাল ৫:১৮ সময়

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান রংপুর এক কর্মিসভায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে এ রকম চিন্তা যদি কারও মাথায় আসে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবেন।’

‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা

Jamaat-e-Islami | ফটো: সংগৃহীত

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্রুত প্রভাব বাড়িয়ে ‘বড় দল হয়ে উঠতে চাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও আদর্শিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ও আমিরের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৃণমূল নেতাদের তীব্র তদবির ও বিদ্রোহের জেরে ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া মাগুরা জেলা আমিরসহ একাধিক হেভিওয়েট নেতাকে বহিষ্কার ও পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দলটি। দৈনিক সমকালের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জামায়াতের এই নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।

আদর্শ বনাম ক্ষমতার টানাপোড়েন; বিশ্লেষকের চোখ

জামায়াতের এই আকস্মিক রূপান্তর নিয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, জামায়াত এতদিন ছিল মূলত একটি ক্যাডারভিত্তিক রেজিমেন্টেড দল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে না থাকায় তারা দেশের প্রধান দুই দলের একটিতে পরিণত হয়েছে। এতে দলটির দ্রুত ও অস্বাভাবিক জনবল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ক্ষমতার হাতছানিই অতীতে নির্বাচনে অনিচ্ছুক থাকা নেতাদের মধ্যে এখন প্রার্থী হওয়ার এবং দলীয় অনুশাসন ভাঙার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বিশ্লেষণ করেন, জামায়াত এখন এক কঠিন মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি। আগের মতো কঠোর ক্যাডারভিত্তিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখলে তারা ১৭-১৮ আসনের ছোট দল হয়েই থাকবে, ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সবার জন্য দলের দরজা উন্মুক্ত করলে তারা আর আদর্শিক দল থাকতে পারবে না। সাম্প্রতিক সময়ে বাজার দখল বা স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সংঘর্ষ মূলত একটি প্রচলিত ও সাধারণ রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ারই স্পষ্ট লক্ষণ।

ভঙ্গুর চেইন অব কমান্ড ও ৮০ বছরের নিয়ম লঙ্ঘন

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা নিজে থেকে দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন না। কেউ তা করলে তিনি শুরুতেই অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় ৮০ বছর দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চললেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়মের ব্যাপক লঙ্ঘন দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হওয়ার পর আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার ধারণা থেকে দলে ঢালাও যোগদানের হিড়িক পড়েছে। ভোটের সমীকরণ মেলাতে ৫ আগস্টের পর বাছবিচার ছাড়াই অসংখ্য মানুষকে ‘সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। দলটির এক জেলা আমির স্বীকার করেছেন, আওয়ামী লীগ আমলে যাদের মাসিক ১০০ টাকা চাঁদা বা একটি মিছিলের জন্য ডেকে আনা যেত না, তারা এখন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার দোহাই দিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে পোস্টার লাগাচ্ছেন এবং তদবির করছেন।

সংসদ সদস্যদের ঘিরে ‘সমান্তরাল বলয় ও মাঠের সহিংসতা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি আসনে নির্বাচনে জয়ী হতে ৮ থেকে ১০ হাজার কর্মীবাহিনী লাগলেও জামায়াতের নিজস্ব জনবল (রুকন, কর্মী ও সহযোগী) সর্বোচ্চ এক হাজার। ফলে নির্বাচনে জিততে দলটিকে সর্বস্তরের বিএনপিবিরোধী মানুষকে সাথে নিতে হয়েছে। এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং অল্প ভোটে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের কেন্দ্র করে এলাকায় একটি নিজস্ব ও সমান্তরাল ‘বলয় তৈরি হয়েছে, যারা জামায়াতের মূল আদর্শের বাইরের লোক।

এই বলয়ের কারণে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এখন প্রচলিত দলগুলোর মতো বাজার ইজারা বা আধিপত্যের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। গত ২০ মে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে পৌর জামায়াতের অফিস সম্পাদক সামিউল ইসলাম নিহত হন। কেন্দ্রীয় তদন্তে জানা যায়, ওই সংঘর্ষে জড়ানোর কোনো সাংগঠনিক কারণ ছিল না, কেবল এমপি বলয়ের ক্ষমতার লোভেই এই সহিংসতা ঘটে।

এমনকি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান উল্লাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেনও রয়েছেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগী জামায়াত কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন আসা এই বলয়ের নেতাদের সমর্থন দেওয়ায় তৃণমূলের ক্ষোভ বাড়ছে।

ইতিহাসের প্রথম ‘বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রের কঠোর শাস্তি

দলীয় নির্দেশ অমান্য করে জোটের শরিকদের আসন ছেড়ে না দিয়ে ভোটের মাঠে থেকে যাওয়ায় জামায়াতের ইতিহাসে প্রথম ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্ম হয়েছে। ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা জামায়াতের সাবেক আমির জসিমউদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা দলটির ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসন জোট শরিক এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বোয়ালখালী উপজেলা নায়েবে আমির ডা. মো. আবু নাছের নির্দেশ অমান্য করে ভোটে থেকে যান। শাস্তি হিসেবে তাঁর রুকনিয়াত (সদস্যপদ) বাতিল করে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একইভাবে সুনামগঞ্জ-১ এবং নরসিংদী-২ আসনে জোটের শরিকদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জেলা আমির ও সেক্রেটারি ভোটের মাঠে থেকে যান। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়ের সমকালকে বলেন, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেইএই বার্তা দিতে শুধু প্রার্থী নয়, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং কমিটির প্রত্যেক নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ১৪ জুন পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মাগুরা জেলা আমির এমবি বাকেরকে।

দলের এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান রংপুর এক কর্মিসভায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে এ রকম চিন্তা যদি কারও মাথায় আসে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবেন। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, পদের এই আকাঙ্ক্ষাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে যদি জামায়াত তথাকথিত ‘বড় দল হতে নাও পারে, তবুও আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

সূত্রঃ সমকাল

ট্যাগ: #জামায়াত #বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী #প্রধান বিরোধীদল
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
* চিহ্নিত তথ্য আবশ্যক। অশালীন মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।