নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য বর্ণবাদীঃ নাহিদ ইসলাম
ফটো: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে নিকাব পরা নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া ওই বক্তব্যকে ‘বর্ণবাদী আচরণ’ এবং সংসদীয় রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন তিনি।
বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বিতর্কিত ওই বক্তব্য পরে সংসদ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এর আগে অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মনিরুল হক চৌধুরী নিকাব পরিহিত নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে বলেন, ‘মেধাবী বোনদের অভিনন্দন, কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা? আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে বুঝব না কী আছে, এটা ঠিক না তো!’
শুধু তাই নয়, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রীকে নিয়েও একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। মনিরুল হকের এই বক্তব্যে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা তাৎক্ষণিক তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ডেপুটি স্পিকারকে সম্বোধন করে বলেন, ওই সংসদ সদস্যের বক্তব্য সংসদীয় রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের সকল সীমাকে অতিক্রম করে গিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেকের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করা এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলা একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এই বক্তব্য মনিরুল হক চৌধুরীর হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।
সংসদে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মনিরুল হক চৌধুরীকে বক্তব্য দেওয়া থেকে বাধা দেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় (পার্সোনাল ফ্রিডম) আঘাত দিয়ে কথা বলা উচিত নয়। এরপরই তিনি সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া আপত্তিকর অংশটুকু সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।