আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুনঃ রেকর্ড ১০ দিনে তদন্ত শেষ, আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট
ঘটনার মাত্র ১০ দিনের মাথায় একমাত্র ঘাতকের বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া | ফটো: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ
আনোয়ারায় দেশজুড়ে আলোচিত মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া রেকর্ড গতিতে শুরু হতে যাচ্ছে। ঘটনার মাত্র ১০ দিনের মাথায় একমাত্র ঘাতকের বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
নৃশংস এই অপরাধের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার এবং নিখুঁত তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ে এই আইনি পদক্ষেপ এলাকায় অপরাধ দমনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত গত ১৩ জুন রাতে, আনোয়ারার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে। সেদিন ঘরের ভেতর ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারান এনি বড়ুয়া ও তার তরুণী কন্যা প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। একই হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হন অর্ক বড়ুয়া নামের আরও একজন।
জরুরী সেবা নম্বর '৯৯৯'-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পলাতক আসামিকে ধরতে পুলিশ সনাতন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সর্বোচ্চ তথ্যপ্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের উপর জোর দেয়। ফলে, পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা মূল ঘাতক রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন। তবে এই মামলার সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয় নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুর ঠিক আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিও জবানবন্দি, যা পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উদ্ধার করে মামলার প্রধান উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মামলাটিকে আদালতে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করাতে ৪ জন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত রিমন বড়ুয়া নিজেও বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ শেষে গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩০৭/৩০২ ধারায় ১৪৭ নম্বর অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়।
দ্রুততম সময়ে এই চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো অপরাধীকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। মাত্র ১০ দিনে তদন্ত শেষ হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।