নিষিদ্ধ ও পলাতক আওয়ামীলীগের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে সেনাবাহিনীঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয় সংসদে এই সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধই থাকে।
শেখ হাসিনা ক্যারিকেচার | ফটো: উইকিমিডিয়া কমনস
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (২৩ জুন) কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মহানগরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়।
৯ দিনের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে, যার মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৯ দিনের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। সেনা মোতায়েন হওয়া নির্ধারিত এলাকাগুলো হল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) এই নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৮ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বেআইনি কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানী ঢাকাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর সব কটি প্রবেশপথসহ ২০০টিরও বেশি কৌশলগত পয়েন্টে পুলিশের বিশেষ তল্লাশিচৌকি (চেকপোস্ট) বসানো হয়েছে।
সন্দেহভাজন বা বহিরাগত কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য ডিএমপির নিয়মিত পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটের ১৮ হাজারের বেশি অফিসার ও ফোর্স সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
ঝটিকা মিছিলের নির্দেশ ও নাশকতার উসকানি
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কর্মসূচির সুযোগ না থাকলেও ভারতে আত্মগোপনে থাকা দলটির শীর্ষ নেতারা ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৭৮টি জেলায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে বড় আকারে ঝটিকা মিছিল করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি গাজীপুরে যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে “একটাও সামনে আসবি না, মাইরা ফালামু” বলে প্রকাশ্য হুমকি ও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ জনতা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া আগামী ১ জুলাই দেশজুড়ে দলটির বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইনি পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধই থাকে।
বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ দলটির তিন শতাধিক শীর্ষ নেতা কারাগারে আছেন এবং বিগত ২২ মাসে তাদের বিরুদ্ধে ১,৮৬২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।