ব্রেকিং
সিন্ডিকেটের অভিযোগে আনোয়ারার সিইউএফএলের দরপত্র বাতিল আইনজ্ঞ থেকে রাজনীতিবিদঃ আনোয়ারার এক বহুমাত্রিক কিংবদন্তি এডভোকেট শামসুদ্দীন মীর্যা আনোয়ারায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের চিরুনি তল্লাশি, প্রবেশপথে কড়া পাহারা নিষিদ্ধ ও পলাতক আওয়ামীলীগের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে সেনাবাহিনীঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনোয়ারায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধঃ দিনদুপুরে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে যুবককে ছুরিকাঘাত উৎপাদন বাড়াতে ৪০ বছরের পুরোনো সিইউএফএলে সার্বক্ষণিক গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত আনোয়ারায় ৩ রেস্টুরেন্টকে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা আনোয়ারায় ২৪ ঘণ্টায় মা-মেয়ে হত্যার রহস্যভেদঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ পুরস্কার পেলেন এসআই শিমুল আনোয়ারায় স্কুলছাত্রীকে মুরগির ফার্মে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাঃ অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার আনোয়ারায় কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের অভিযোগে আনোয়ারার সিইউএফএলের দরপত্র বাতিল আইনজ্ঞ থেকে রাজনীতিবিদঃ আনোয়ারার এক বহুমাত্রিক কিংবদন্তি এডভোকেট শামসুদ্দীন মীর্যা আনোয়ারায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের চিরুনি তল্লাশি, প্রবেশপথে কড়া পাহারা নিষিদ্ধ ও পলাতক আওয়ামীলীগের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে সেনাবাহিনীঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনোয়ারায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধঃ দিনদুপুরে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে যুবককে ছুরিকাঘাত উৎপাদন বাড়াতে ৪০ বছরের পুরোনো সিইউএফএলে সার্বক্ষণিক গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত আনোয়ারায় ৩ রেস্টুরেন্টকে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা আনোয়ারায় ২৪ ঘণ্টায় মা-মেয়ে হত্যার রহস্যভেদঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ পুরস্কার পেলেন এসআই শিমুল আনোয়ারায় স্কুলছাত্রীকে মুরগির ফার্মে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাঃ অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার আনোয়ারায় কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত
আনোয়ারা ব্রেকিং

আইনজ্ঞ থেকে রাজনীতিবিদঃ আনোয়ারার এক বহুমাত্রিক কিংবদন্তি এডভোকেট শামসুদ্দীন মীর্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ জুন ২০২৬ বিকাল ৭:৫৮ সময়

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি স্বাধিকার ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে অত্যন্ত সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত হন।

আইনজ্ঞ থেকে রাজনীতিবিদঃ আনোয়ারার এক বহুমাত্রিক কিংবদন্তি এডভোকেট শামসুদ্দীন মীর্যা

এডভোকেট শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যা | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা

চট্টগ্রামের দক্ষিণ জনপদের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়ন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এক অঞ্চল হিসেবে সুবিদিত। এই গৌরবোজ্জ্বল মাটিরই এক কৃতী সন্তান বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এডভোকেট শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যা।

১৯৩৫ সালে বারখাইন ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ কুচিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব আবদুর রহমান মীর্যা (যিনি মরহুম আলহাজ্ব এ. আর. মীর্যা নামেও পরিচিত) ছিলেন এলাকার অত্যন্ত সম্মানিত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।

সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল সরওয়ার জাহান নিজাম এবং সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজার মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মৃতিধন্য এই বারখাইন ইউনিয়নের গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম অংশীদার শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যা। নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনকে তিনি আইন পেশা, জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবার এক অনুপম ক্যানভাসে রূপ দিয়েছেন, যা তাঁকে সমগ্র অঞ্চলে একটি অনন্য ও শ্রদ্ধেয় অবস্থানে আসীন করেছে।

ছাত্রজীবনের সাংবাদিকতা ও উচ্চশিক্ষা

এডভোকেট শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যার মেধার স্ফুরণ ঘটেছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখান থেকে তিনি তাঁর স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ও আজীবন সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। তবে তাঁর কর্মজীবনের প্রথম অধ্যায়টি আলোড়িত হয়েছিল অক্ষরের পৃথিবীতে।

ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা ঘটেছিল। সাংবাদিকতার সেই তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাই হয়তো পরবর্তীতে তাঁকে সমাজ, আইন ও রাজনীতির মূল স্রোতে জোরালো ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। 

আইন পরিমণ্ডলে পাঁচ দশক

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির (Chittagong District Bar Association) সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল আইনি ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সুত্রপাত হয়।

পাকিস্তানের স্বাধীনতা-পূর্ব সময়কাল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অত্যন্ত মেধা ও দক্ষতার সাথে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। আইন অঙ্গনে তাঁর প্রজ্ঞার অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম আদালতের সরকারি উকিল (GP) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে সাধারণ দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক চাহিদার সাথে সংগতি রেখে কর আইনে নিজেকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতিতে (Chittagong Tax Bar Association) পুনরায় সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

আইনের এই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান নতুন প্রজন্মের মাঝে বিলিয়ে দিতে তিনি ১৯৮২ সাল থেকে চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যাপনায় যুক্ত ছিলেন।

ভাসানীর আদর্শ থেকে জাতীয় রাজনীতি ও স্বাধিকার আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে এডভোকেট শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যা ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চিন্তাদর্শের একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি দীর্ঘ সময় ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বে থেকে প্রগতিশীল ও জনমুখী রাজনীতির চর্চা করেছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি স্বাধিকার ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে অত্যন্ত সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত হন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (আনোয়ারা) নির্বাচনী এলাকা থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রামের 'পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ'-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের ব্যাপ্তিকে প্রমাণ করে। 

শিক্ষা বিস্তার ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনে অবদান

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম’ (IIUC) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সিন্ডিকেট মেম্বার এবং ট্রাস্টি বোর্ডের (Board of Trustees) সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিনির্ধারণ ও আইনি জটিলতা নিরসনে প্রাজ্ঞ অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে আসছেন।

পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (CU) একজন প্রাক্তন সিনেট সদস্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি, বায়তুশ শরফ গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন 'নাটার চট্টগ্রাম'-এর সাথেও তাঁর নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে তিনি চট্টগ্রামের বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি জড়িত।

আন্তর্জাতিক সংযোগ ও পরিবেশনীতিতে আইনি অংশগ্রহণ

শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যার কর্মতৎপরতা কেবল স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত ছিল। তিনি ১৯৮১ এবং ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চীন সফর করেন এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ভি.পি.এল ইয়ার (V.P.I. Year) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংযোগ রক্ষা করেন।

দেশের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নেও তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম; ২০০৪ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে কুয়েত ফান্ড মিশনের (Kuwait Fund Mission) উচ্চপর্যায়ের সফর ও উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী বৈঠকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদের সাথে তাঁর অংশগ্রহণ এর অন্যতম প্রমাণ।

পরিবেশগত সুশাসন ও নীতি নির্ধারণেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) আয়োজিত বাংলাদেশের জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (NBSAP) সংলাপে চট্টগ্রাম জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশ নেন। সেখানে পার্বত্য ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা, চকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধার, জিআইএস (GIS) ম্যাপিং এবং সেন্ট মার্টিনের প্রবাল প্রাচীর সুরক্ষার মতো জটিল আইনি ও পরিবেশগত এজেন্ডায় তিনি সরাসরি পরিবেশনীতি ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটান।

মননশীলতা ও মানবাধিকার

আইন, রাজনীতি আর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজের ভেতরের মননশীলতাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সাহিত্যের অবগাহনে। চিন্তাশীল এই প্রবীণ আইনবিদের গভীর জীবনবোধ ও অনুভূতির চমৎকার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর রচিত ‘এলোমেলো ভাবনা’ নামক গ্রন্থে। এর পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।

এডভোকেট শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যা তাঁর সামগ্রিক জীবনকর্ম দিয়ে আনোয়ারার তথা সমগ্র চট্টগ্রামের এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছেন। আদালত কক্ষের চৌকাঠ পেরিয়ে শিক্ষা, পরিবেশনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনীতি ও সাহিত্যের এই যে মহীরুহ হয়ে উঠা তা নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুকরণীয় ও কালোত্তীর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ট্যাগ: #আনোয়ারা #বারখাইন #শামসুদ্দীন আহমদ মীর্যা
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
* চিহ্নিত তথ্য আবশ্যক। অশালীন মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।