আনোয়ারায় হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া (র.) এর বার্ষিক ওরশ আগামীকাল
পাথরকে তরী বানিয়ে এসেছিলেন আরবে থেকে! আনোয়ারায় শাহ্ মোহছেন আউলিয়ার ওরশ ঘিরে লাখো মানুষের ঢল
শাহ মোহছেন আউলিয়ার মাজার, আনোয়ারা | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তম হাটে অবস্থিত মাজার প্রাঙ্গণে আগামীকাল শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সুফি সাধক হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া (র.)-এর বার্ষিক ওরশ শরিফ।
প্রতি বছরের ন্যায় বাংলা ৬ আষাঢ় এই মহান সাধকের তিরোধান দিবসে এই ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত-আশেকানের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে মাজার কর্তৃপক্ষ।
ওরশ শরিফ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাজার কমিটির মোতোয়াল্লি, খাদেম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খতমে কোরআন, মিলাদ ও জিকির মাহফিল, সুফিবাদের ওপর ধর্মীয় আলোচনা, আখেরি মোনাজাত এবং দিনশেষে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের মাঝে তাবারুক বিতরণ।
৭০০ বছরের আধ্যাত্মিক ইতিহাস
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলার সুফি মতবাদের অন্যতম প্রবর্তক হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া (র.) সুদূর আরব দেশ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে পাথরকে তরী বানিয়ে প্রায় ৭০০ বছর আগে চট্টগ্রামে আগমন করেন।
চট্টগ্রাম শহরের প্রবর্তক এবং চেরাগী পাহাড়ে শায়িত মহান সাধক হযরত বদর আউলিয়া (রহ.) ছিলেন তাঁর আপন মামা। চট্টগ্রামে আসার পর শাহ্ মোহছেন আউলিয়া আনোয়ারার বটতলী এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘকাল ইবাদত-রিয়াজতে মগ্ন থাকেন। পরবর্তীতে ৯৮৫ হিজরি (৯৭১ বাংলা, ১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দ) সনের ৬ আষাঢ় এই মহান আধ্যাত্মিক পুরুষ ইন্তেকাল করেন।
উৎসবের আমেজ ও কড়া নিরাপত্তা
বার্ষিক এই ওরশকে কেন্দ্র করে কেবল মাজার প্রাঙ্গণই নয়, বরং আনোয়ারার ১১টি ইউনিয়নসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন নিজ নিজ এলাকায় কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। ওরশ উপলক্ষে বটতলী রুস্তম হাট ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিশাল মেলা বসেছে।
ভক্তদের জন্য রাতব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কবিগান, জারিগান ও মাইজভাণ্ডারী সুফি গানের আসরের আয়োজন করা হয়েছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির যুগ্ম মোতোয়াল্লি এস এম জহিরুল ইসলাম জানান, “প্রতিবছরের মতো এবারও পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ওরশ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মেলায় আগত লাখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ও মাজারের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থাকবে।