সিন্ডিকেটের অভিযোগে আনোয়ারার সিইউএফএলের দরপত্র বাতিল
সনাতন পদ্ধতিতে এই সিন্ডিকেট ও পেশীশক্তি প্রদর্শনের পর বিষয়টি নিয়ে বিসিআইসি তদন্তে নামে।
সিইউএফএল | ফটো: Unplash/MDSUMAR28
আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিং কাজের দরপত্র নিয়ে বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সনাতন (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে দরপত্র জমা দিতে গিয়ে প্রতিযোগীদের বাধা প্রদান এবং ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি অর্থের অপচয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার বিতর্কিত দরপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-জিপি তথা অনলাইন পদ্ধতিতে তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত ২৫ মে সিইউএফএলের ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠান শিডিউল সংগ্রহ করে। কিন্তু দরপত্র জমা দেওয়ার দিন কারখানার মূল ফটকে অবস্থান নেয় একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের ভাড়াটে লোকজন।
তারা অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে কারখানায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে সক্ষম হয়। যেখানে স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে প্রায় ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ ও ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপ্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সনাতন পদ্ধতিতে এই সিন্ডিকেট ও পেশীশক্তি প্রদর্শনের পর বিষয়টি নিয়ে বিসিআইসি তদন্তে নামে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলার পর ম্যানুয়াল দরপত্রটি বাতিল করা হয়। দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ বন্ধ করতে এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা 'ই-জিপি' পদ্ধতিতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
২৪ জুন সিইউএফএলের প্রধান রসায়নবিদ ও অপারেশন প্রধান (ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে) উত্তম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ই-দরপত্র (টেন্ডার আইডি- ১৩০৩৪৩৭) প্রকাশের কথা জানানো হয়।
নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুন থেকে ০৮ জুলাই পর্যন্ত বিডাররা অনলাইনে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন এবং ০৯ জুলাই দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হবে।
এদিকে, এই টেন্ডার কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে সিইউএফএলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকারকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেপিএমএল ও যমুনা সার কারখানায় দুই দফা বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে ২২ জুন সেই আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে কর্মস্থলেই বহাল রাখা হয়।
অন্যদিকে, টেন্ডার থেকে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানকে বদলির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তিনি সদর দপ্তরে গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন এবং দায় অধীনস্থদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানে একের পর এক অনিয়মের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনবিদরা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হারুনুর রশীদ রুবেল জানান, সিইউএফএলের মতো একটি বড় কারখানায় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। দরপত্র বাতিলের পাশাপাশি এই কমিশন বাণিজ্যের পেছনে কারা জড়িত, তা বের করতে বিসিআইসি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।