৫ দিন ধরে পানির নিচে চাতরী চৌমুহনী; অপরিকল্পিত উন্নয়নে দুর্ভোগ চরমে
এমনকি রাস্তার পাশের ময়লা-আবর্জনা পানির সাথে মিশে পুরো এলাকায় এক অসহনীয় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
আনোয়ারা উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাতরী চৌমুহনীতে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহের বৃষ্টির পর আজ ৫ দিন পার হলেও বাজার এলাকা থেকে পানি নামেনি।
বৃষ্টি থামলেও সড়ক ও বাজারে জমে থাকা নোংরা পানি সরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ ও শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যে। বিশেষ করে কেইপিজেড ও সিইউএফএল-এর হাজার হাজার কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই পচা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
আনোয়ারার এই প্রধান পয়েন্টে প্রায় ৫৮৪ কোটি টাকার এক বিশাল সড়ক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চললেও বর্তমানে তা স্থানীয়দের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সড়কের একটি অংশ ঢালাই করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ড্রেনবিহীন এই একতরফা অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই সড়কের পানি সরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি রাস্তার পাশের ময়লা-আবর্জনা পানির সাথে মিশে পুরো এলাকায় এক অসহনীয় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের স্থবিরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এর পেছনে বেরিয়ে এসেছে এক নতুন তথ্য। দোহাজারী সড়ক বিভাগ (সওজ) দাবি করছে, তারা পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার পাশে নালা তৈরির উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় বাজার ইজারাদার ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বাধার কারণে কাজ শুরু করতে পারেনি। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের অভাবেই মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থে কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
ধীরগতির উন্নয়ন এবং কর্তৃপক্ষের দায়সারা মনোভাবের কারণে দিন দিন চাতরী চৌমুহনীর পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো অজুহাত নয় বরং দ্রুত পানি সরানোর পথ তৈরি করে বাণিজ্যিক এই প্রাণকেন্দ্রের প্রাণ ফিরিয়ে আনা হোক।