আনোয়ারা থেকে সিএনজি ছিনতাই, কালুরঘাট থেকে আটক ২
গত ৩ জুন মধ্যরাতে আনোয়ারা উপজেলা সদরের বিলপুর রাস্তার মাথা এলাকায় সিএনজি চালক সাইফুদ্দিনকে মারধর করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়।
ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আনোয়ারায় সিএনজি ছিনতাই মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট সেতু এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া সিএনজিটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের আধারঘোনা গ্রামের মো. মহিউদ্দিনের ছেলে মো. কাদের (১৯) ও একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম (২২)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন মধ্যরাতে আনোয়ারা উপজেলা সদরের বিলপুর রাস্তার মাথা এলাকায় সিএনজি চালক সাইফুদ্দিনকে মারধর করে সিএনজি ছিনতাই করা হয়।
এর আগে অভিযুক্তরা যাত্রী সেজে বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী সিএনজি স্টেশন থেকে অটোরিকশাটি ভাড়ায় নিয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সাথে আরও দুইজন লোক সিএনজিতে উঠেন। পরে তারা উপজেলার মালঘর বাজারে যাওয়ার কথা বলে পথিমধ্যে নির্জন স্থানে চালককে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সিএনজিটি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সিএনজির মালিক গোলাম কুদ্দুস বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে পুলিশ। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এই বিশেষ টিম কালুরঘাট সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা সিএনজি ছিনতাই চক্রের এই দুই সদস্যকে লুটের মালসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশের তৎপরতায় অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত দুইজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত সিএনজিটি মালিকের জিম্মায় দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।”