আনোয়ারা উপকূলে থাই নাবিক খুনঃ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার সহকর্মী
গ্রেফতারকৃত তুরাকর্ণ বুরুসিকও থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং তিনি নিহত রাফিফংয়ের সাথে ‘এমভি কেপিপি-০১’ (আইএমও ৯০২১২০৩) নামের ওই বিদেশি জাহাজে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ফটো: সংগৃহীত
আনোয়ারা উপকূলে গভীর বঙ্গোপসাগরে নোঙর করা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে থাই ক্রু রাফিফং ক্লাহান (৩০) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিকে জালে পুরেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে মাঝসমুদ্রে ওই জাহাজে এক ঝটিকা ও যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঘাতক নাবিক তুরাকর্ণ বুরুসিক (৩৫)-কে গ্রেফতার করে পতেঙ্গা ও আনোয়ারা থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত তুরাকর্ণ বুরুসিকও থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং তিনি নিহত রাফিফংয়ের সাথে ‘এমভি কেপিপি-০১’ (আইএমও ৯০২১২০৩) নামের ওই বিদেশি জাহাজে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ বুধবার সকালেই জাহাজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনোয়ারা থানায় একটি আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে সমুদ্রের ‘চার্লি অ্যানকর পয়েন্টে’ নোঙর করা অবস্থায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই থাই সহকর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তুরাকর্ণ বুরুসিক ধারালো ছুরি নিয়ে রাফিফংয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বুকে-পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাজের অন্য কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কোস্টগার্ড ও শিপিং এজেন্টের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শরীরের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রাফিফং।
হত্যাকাণ্ডের পর পরই সমুদ্রে জাহাজ থেকে যেন খুনি পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “মামলা দায়েরের পর পরই পতেঙ্গা ও আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সাগরে অবস্থানরত জাহাজটিতে চিরুনি অভিযান চালায়। সেখান থেকে অভিযুক্ত থাই নাগরিক তুরাকর্ণ বুরুসিককে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
আন্তর্জাতিক নিয়ম ও দেশীয় আইন অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুততার সাথে চলমান রয়েছে।”