আনোয়ারা ভূমি অফিস যেন দুর্নীতির আখড়া; এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরার দায়িত্বকালে নামজারি কার্যক্রম নিয়ে ভুক্তভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
দুর্নীতির আখড়া আনোয়ারা ভূমি অফিস | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসে সেবার নামে চলছে চরম হয়রানি ও দুর্নীতির মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি ধাপে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা বর্তমানে এক প্রকার জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরার দায়িত্বকালে নামজারি কার্যক্রম নিয়ে ভুক্তভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসের এসব হয়রানির অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে। প্রিয় আনোয়ারা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে 'ভেরিফিকেশন' করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোটা অঙ্কের টাকা দিলে যেকোনো জটিল ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। বর্তমান এসিল্যান্ডের সময়কালে ১৯৭৩-৭৪ সালের পুরনো দলিলের ভিত্তিতেও একাধিক নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সামান্য আরএস দাগ বা তুচ্ছ অজুহাতে ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা হয় কিংবা খারিজ করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দালাল বা প্রভাবশালী মাধ্যম ছাড়া সরাসরি গেলে ভূমি সেবা পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১১৭০ টাকায় (৭০ টাকা আবেদন ও ১১০০ টাকা ডিসিআর ফি) নামজারি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে একেকজন আবেদনকারীকে ১০ হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছে, অফিসের কিছু ক্যাজুয়াল কর্মচারী ১১০০ টাকার পরিবর্তে ৩১০০ টাকা ডিসিআর কাটতে বাধ্য করেন। এছাড়া প্রস্তাব পাঠানো, সার্ভেয়ার ও কানুনগোর অজুহাতে বিভিন্ন ধাপে ঘুষ দিতে হয়, যার হার ক্ষেত্রবিশেষে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
আবদুল আলিম নামের এক ভুক্তভোগী এ প্রতিবেদককে জানান, ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়, কিন্তু টাকা দিলে এক দিনেই কাজ হয়ে যা।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনসুর আলী অভিযোগ, ভূমি অফিসের ভুলের কারণে তাঁর পিতার জায়গায় স্বামীর নাম বসে গেছে, যা সংশোধনের জন্য তিনি মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দালালের শরণাপন্ন না হওয়ায় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কথাই বলেন না বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
মিহাদ নামের এক সেবাগ্রহীতা জানান, ‘মিউটেশন টু মিউটেশন’ নামজারি করতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল খারিজ করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরাকে বরিশাল বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। তবে রহস্যজনক কারণে পরদিন ১৩ জানুয়ারি সেই বদলি স্থগিত করে তাঁকে পুনরায় আনোয়ারায় বহাল রাখা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর গত ১৯ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার মেলেনি।
ভূমি অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের অনিয়মে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ এখন বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতিতে একটি স্বচ্ছ গণশুনানি এবং অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।