আনোয়ারার চাইনিজ ইকোনমিক জোনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী ৩০ চীনা কোম্পানির
ইতোমধ্যে ১২টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বড় প্রকল্প রয়েছে।
ফটো: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল ও বিভিন্ন অর্জন গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতেই ঢাকার চীনা দূতাবাস এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, আনোয়ারার চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রকল্পে এবার অত্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এই প্রকল্পটি নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এর ফলে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে ছিলেন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বড় বিনিয়োগ ফোরামে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দালিয়ানে চীনের বেশ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
রাষ্ট্রদূত নিজেও চীনের বেশ কয়েকটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। কয়েকদিন আগে বিডার (BIDA) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও উল্লেখ করেছেন যে, ইতোমধ্যে ১২টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বড় প্রকল্প রয়েছে।
ইয়াও ওয়েনের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলোর মাঝে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি হওয়া। আনোয়ারার চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের এই দ্রুত অগ্রগতি চীনা ব্যবসায়ীদের কাছে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে, বাংলাদেশ এখন চীনা বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সরকারি সফরে চীন সফর করেন।