আনোয়ারায় উত্তপ্ত নিত্যপণ্যের বাজারঃ মাছ, মুরগি ও সবজির দামে নাকাল ক্রেতারা
বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল ও খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ফটো: সংগৃহীত
আনোয়ারা উপজেলার নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। শনিবার (২৭ জুন) আনোয়ারার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ, মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের সবজি এখনও বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্যের জোগান থাকলেও বিক্রেতারা বিভিন্ন সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন এবং তারা দ্রুত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারে চড়া ভাব আগের সপ্তাহের মতোই বজায় রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোনালী মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মুরগির বাজার চড়া হলেও গরু ও খাসির মাংসের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল ও খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দামের তীব্র চাপ অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে ইলিশের দামই ক্রেতাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ইলিশের জোগান ঠিক থাকলেও দাম বেশি হওয়ার কারণে সাধারণ ক্রেতারা বড় সাইজের ইলিশ কিনতে পারছেন না এবং বাধ্য হয়ে ছোট সাইজের ইলিশেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। এছাড়া বাজারে পাঙ্গাস মাছ কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে 6০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের মধ্যে কাঁচকি ৩০০ টাকা ও মলা ২৮০ টাকা এবং সামুদ্রিক মাছের মধ্যে সুরমা ৩০০ টাকা, রুপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির বাজারে গিয়েও সাধারণ ক্রেতাদের কোনো স্বস্তি মেলেনি। বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কাঁচকলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম না কমার কারণে খুচরা পর্যায়ে কম দামে সবজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্যও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এই চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার তথ্যমতে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে মোটা চাল, লুজ সয়াবিন তেল, আমদানি করা রসুন, দেশি রসুন, দেশি পেঁয়াজ, হলুদ, আদা, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন, আলু, কাঁচামরিচ এবং শসার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাকি অন্যান্য পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও অধিকাংশ নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বমুখী দাম সাধারণ ভোক্তাদের প্রতিনিয়ত হিসাবনিকাশ করে চলতে বাধ্য করছে।