চট্টগ্রামে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনঃ লক্ষ্য ১৪ লাখের বেশি শিশু
জেলার ১৫টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
ফটো: সংগৃহিত
জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রামে ১৪ লাখ ৬ হাজারের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ জেলার ১৫টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ ও চসিকের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চসিক এলাকার কোনো শিশু যাতে এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২ হাজার ৬৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
এবার নগরীতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
গত বছর নগর এলাকায় এই কর্মসূচির সাফল্যের হার ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ছিল উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এবার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা চলছে। এ জন্য নিয়মিত টিকাকেন্দ্রের পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ জনাকীর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ দলের মাধ্যমে পথশিশুদেরও এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চসিক এলাকার বাইরে জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৭৯ জন শিশুর বয়স ৬ থেকে ১১ মাস এবং বাকিরা ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে জেলার ২০০টি ইউনিয়নের ৬০০টি ওয়ার্ডে ১৭টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র এবং ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও চসিকের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।