কর্ণফুলীতে খাল খননের বরাদ্দ ফেরত গেল কোষাগারে
বাদামতল খাল | ফটো: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আওতায় বাস্তবায়নাধীন দুটি খালের পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির ছায়া ও চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
খালের প্রস্থ সংকীর্ণ হওয়ায় খননযন্ত্র (ভেকু) প্রবেশ করতে না পারার এক অদ্ভুত অজুহাতে প্রকল্পের প্রায় দেড় কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ কোষাগারে ফেরত গেছে।
অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের পরিবর্তে ভেকু ব্যবহার, গাছপালা কেটে মানুষের ঘরবাড়ির ক্ষতি করা এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শিকলবাহা ও খোয়াজনগর খালের প্রায় ৮ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে খোয়াজনগর খালের ৫ কিলোমিটার খননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০০ মিটার!
পিআইও সুজন কান্তি দাশ স্বীকার করেছেন যে, সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে খোয়াজনগর খালের বরাদ্দের মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে এবং বাকি প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকাই ফেরত যাচ্ছে। অন্যদিকে, শিকলবাহা খালে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে অবশিষ্ট ৪৪ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সাইনবোর্ডে ১৭৮ জন শ্রমিকের নাম ও ৩৮ লাখ টাকা মজুরি দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি, বরং প্রতি ঘণ্টা ২৬০০ টাকায় ভেকু ভাড়া করার গোপন চুক্তি মিলেছে।
সবচেয়ে বড় চমক ও রহস্য তৈরি হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের বক্তব্যে। একই সময়ে পাশের আনোয়ারায় একই বরাদ্দ পেয়ে কাজ সফলভাবে চললেও কর্ণফুলীতে কেন ব্যর্থ হলো এর কোনো সদুত্তর মেলেনি।
অথচ কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র দাবি করেছেন, অর্থ স্থায়ীভাবে ফেরত যাচ্ছে না, জুন ক্লোজিংয়ের পর আবার পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে, এই কাজের উদ্বোধন করা চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম নিজেই আকাশ থেকে পড়েছেন! তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “খাল খননের জন্য এত বড় বরাদ্দ সাধারণত আসে না। দুই কোটির বেশি বরাদ্দ এসেছে কি না, তা আমার জানাই নেই!”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির এই মেগা প্রকল্প নিয়ে খোদ এমপির ‘কিছুই না জানা’ এবং প্রশাসনের এমন সমন্বয়হীনতা ও হরিলুটের নেপথ্যে কার হাত রয়েছে, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে পুরো চট্টগ্রামে।