জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনিজুয়েলাঃ লাশের সংখ্যা লাখ ছাড়ানোর শঙ্কা
তীব্র ঝাঁকুনিতে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশে গেছে বহু বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।
ফটো: এপি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্প। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে একযোগে এই বিধ্বংসী ভূকম্পন অনুভূত হয়।
তীব্র ঝাঁকুনিতে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশে গেছে বহু বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। আকস্মিক এই ধ্বংসযজ্ঞের মুখে প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার আতঙ্কিত মানুষ। গোটা শহরজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার আর চরম ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় আঘাত
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ একক ভূমিকম্প ছিল না, বরং পরপর দুটি অতি শক্তিশালী কম্পন পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। প্রথম দফায় আঘাত হানে ৭.২ মাত্রার তীব্র একটি ভূমিকম্প। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.৫ মাত্রার আরও একটি ভয়াবহ ভূকম্পন আঘাত হানে। মূলত এই জোড়া কম্পনের যুগপৎ তীব্রতার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
১ লাখ মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ভেনিজুয়েলায় এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন মার্কিন ভূবিজ্ঞানীরা। ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠার মতো পরিসংখ্যান। সংস্থাটির গাণিতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ। এমনকি পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে যে, প্রাণহানির সংখ্যা ১ লাখ পার হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
ভূমিধস ও সুনামি সতর্কতা
ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে ভেনিজুয়েলার পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের ভূমিধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সাথে সমতল ভূমিতে মাটির তারল্য বা 'লিকুইফেকশন' হওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে ঘটনার ঠিক পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূলসহ নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জে উচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে সুনামি অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বড় কোনো বিপদের লক্ষণ না থাকায় সেই সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।