বারখাইন ইউনিয়নে চোরের উপদ্রবঃ এক রাতে পৃথক তিনটি চুরির ঘটনা
একই রাতে পরপর তিনটি চুরির ঘটনায় বারখাইন ইউনিয়নবাসীর মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ফটো: সংগৃহীত
আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নে একই রাতে তিনটি পৃথক গ্রামে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সংঘবদ্ধ চোরের দল এক রাতেই হানা দিয়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু, একটি নতুন মোটরসাইকেল এবং একটি প্রবাসী পরিবারের নিত্যব্যবহার্য মালামাল লুটে নিয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ইউনিয়নের শিলাইগড়া, সৈয়দ কুচাইয়া ও ঝিওরী গ্রামে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে। একই রাতে পরপর তিনটি চুরির জেরে পুরো এলাকা জুড়ে এখন তীব্র চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার শেষ রাতে (আনুমানিক আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে) একদল চোর বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়া গ্রামের বড় আলী ফৌজদার বাড়ির মোহাম্মদ হোসেনের গোয়ালঘরের তালা কাটে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হোসেন স্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মী। চোরের দল তার গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভী ও একটি ষাঁড়সহ মোট তিনটি গবাদিপশু নিয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। বুধবার সকালে গোয়ালঘর খালি দেখে তিনি আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
একই রাতে চোরের দল হানা দেয় সৈয়দ কুচাইয়া গ্রামের একটি ভবনে। ওই ভবনের নিচতলার পার্কিং স্পেস থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেলটির মালিক ২৪ বছর বয়সী এনজিও কর্মী মোহাম্মদ আবু হানিফ, যিনি ওই ভবনের একজন ভাড়াটিয়া। সকালে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মুখ ঢাকা অবস্থায় দুই ব্যক্তি পার্কিং থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চম্পট দেয়। নতুন কেনা হওয়ায় বাইকটির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে ভুক্তভোগী জানান।
চোরদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ইউনিয়নের ঝিওরী গ্রামও। ওই গ্রামের কাতার প্রবাসী রিপন দত্তের ফাঁকা বসতঘরে তৃতীয় চুরির ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগীর ভাই সুমন দত্ত জানান, রিপন দত্তের স্ত্রী অসুস্থতার কারণে বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। ঘরটি খালি থাকার সুযোগে চোরেরা ভেতরে ঢোকে। তবে ঘরে দামী কোনো জিনিস বা স্বর্ণালঙ্কার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রান্নাঘরের হাঁড়ি-পাতিল, শাড়ি, কাপড়চোপড় ও বিছানার চাদর বস্তাভর্তি করে নিয়ে যায় চোরের দল।
একই রাতে পরপর তিনটি চুরির ঘটনায় বারখাইন ইউনিয়নবাসীর মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, গবাদিপশু ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চোর চক্রকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে।