শিশুদের গরমে তালমিছরির শরবত কতটুকু নিরাপদ, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ফটো: সংগৃহিত
তীব্র গরমে শরীর ও পেট ঠান্ডা রাখতে অনেকেই নিয়মিত তালমিছরির শরবত পান করেন। এমনকি ঘরের ছোট্ট শিশুটিকেও ক্লান্তি দূর করতে এই পানীয় খাওয়ানো হয়ে থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, খাঁটি তালমিছরিতে ‘ইনুলিন’ নামক এক ধরনের প্রিবায়োটিক ফাইবার থাকে, যা মূলত আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি জোগায় এবং পরিপাকতন্ত্রের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ সংক্রমণ, সর্দি ও ফ্লু-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তবে তালমিছরির এসব গুণাগুণ থাকলেও এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সতর্কতা ও নিয়মের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, সাধারণ চিনির মিছরি বা প্রক্রিয়াজাত তালমিছরিতে পুষ্টিগুণ খুব একটা বেশি থাকে না। তবে খাঁটি বা রিফাইন না করা তালমিছরিতে অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণে পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। সাধারণ সাদা চিনির তুলনায় তালমিছরির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছুটা কম হওয়ায় এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা চিনির মতো অত দ্রুত বৃদ্ধি পায় না। তবে এর মানে এই নয় যে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির নিরাপদ বিকল্প। তালমিছরি খেলেও রক্তে শর্করা বা সুগার বাড়বে, যা ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর লড়াইয়ে থাকা মানুষদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সাধারণত শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষদের দ্রুত শক্তি জোগাতে ও ক্যালোরির ঘাটতি পূরণ করতে মিছরির শরবত ভালো কাজ করে। বিশেষ করে গরমে অতিরিক্ত ঘেমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়লে এতে থাকা শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে। তবে পিসিওএস (PCOS), কিডনির জটিলতা কিংবা যাদের শরীরে সুক্রোজ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ, তাদের জন্য তালমিছরি খাওয়া মোটেও ঠিক নয়।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের যেখানে চিকিৎসকেরা চিনি খাওয়াতে বারণ করেন, সেখানে তাদের তালমিছরি দেওয়া যাবে কি না। অনেক পরিবারেই নবজাতক বা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়মিত তালমিছরির পানি খাওয়ানোর প্রচলন রয়েছে। তবে এই বিষয়ে ভারতীয় চিকিৎসক অর্পণ সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তালমিছরির মিষ্টতা সাধারণ চিনির তুলনায় অর্ধেক হলেও এটি মূলত তাল থেকে তৈরি এক ধরনের প্রক্রিয়াজাত চিনি বা ‘প্রসেসড সুগার’। যেহেতু দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য যেকোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, তাই সুরক্ষার স্বার্থে এই বয়সের শিশুদের খাদ্যতালিকায় তালমিছরি না রাখাই শ্রেয়।