আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনীতে সিন্ডিকেটের পতনঃ উচ্ছেদ অভিযানে মানুষের স্বস্তি!
স্থানীয়দের মতে, দখলদারদের এই দাপটের কারণেই এলাকাটি তার বাণিজ্যিক সৌন্দর্য হারিয়ে এক নোংরা ও ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হয়।
সওজের অভিযানের পর ধ্বংসস্তুপ চাতরী | ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারার প্রধান বাণিজ্যিক হৃদপিণ্ড চাতরী চৌমুহনী বাজারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় পরিচালিত সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, এই স্বস্তি যেন ক্ষণস্থায়ী না হয় সেই দাবি জানিয়েছেন আনোয়ারার সাধারণ মানুষ।
চাতরী চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা মো রমজান আলী (৪২) প্রিয় আনোয়ারাকে বলেন, 'মুষ্টিমেয় কিছু দখলবাজের স্বার্থে কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের পথ জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।'
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাতরী চৌমুহনীর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বছরের পর বছর ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কব্জায় ছিল।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক শিথিলতাকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি সড়কের দুই পাশ দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী কয়েকশ দোকানপাট গড়ে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ দখলবাজি থেকে প্রতি মাসে বিশাল অংকের চাঁদা আদায় করত চক্রটি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা থোড়াই কেয়ার করত। উচ্ছেদ অভিযান এলেই তারা সাময়িকভাবে সরে যেত, আবার প্রশাসনের গাড়ি চলে গেলেই পুরোনো রূপে ফিরে আসত।
দখলদারদের কারণে এই ব্যস্ততম মোড়টি আনোয়ারার ‘দুঃখ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। রাস্তার ওপর দোকানের পসরা সাজানো, অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত পুরোপুরি দখলে থাকায় পথচারীদের মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হতো। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল শুরুর সময়ে তীব্র যানজট আর বিশৃঙ্খলা চাতরী চৌমুহনীকে এক বিভীষিকায় পরিণত করেছিল।
স্থানীয়দের মতে, দখলদারদের এই দাপটের কারণেই এলাকাটি তার বাণিজ্যিক সৌন্দর্য হারিয়ে এক নোংরা ও ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হয়।
এবারের অভিযানে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর মনে এখনো সংশয় রয়েছে। অতীতে উচ্ছেদের পর দ্রুত পুনর্দখলের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সচেতন মহল বলছে, আংশিক নয়, সওজের অধিগ্রহণকৃত প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা স্থায়ীভাবে উদ্ধার করতে হবে। তারা প্রস্তাব করেছেন, উদ্ধারকৃত জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অথবা টেকসই ফুটপাত নির্মাণ করে বৃক্ষরোপণ করা হোক, যাতে দখলদাররা পুনরায় সেখানে ফেরার সুযোগ না পায়।
সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানিয়েছেন, এবারের অভিযান কোনো লোকদেখানো কর্মসূচি নয়। তিনি বলেন, “উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং জনগণের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখা হবে না।
সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।” ভবিষ্যতে কেউ জায়গা পুনর্দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
চাতরী চৌমুহনীকে দখলমুক্ত ও যানজটমুক্ত রাখতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক কঠোরতা বজায় থাকবে, এমনটাই এখন আনোয়ারার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।