আনোয়ারায় কেইপিজেড ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনাঃ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
স্থানীয়দের দাবী, বৈধ জমিতে স্থাপিত সীমানা পিলার, কাঁটাতারের বেড়া এবং সাইনবোর্ড কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে ভেঙে দিয়েছে।
ফটো: সংগৃহীত
আনোয়ারা উপজেলায় জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণবন্দর খলিফাপাড়া এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের মালিকানাধীন বৈধ জমিতে স্থাপিত সীমানা পিলার, কাঁটাতারের বেড়া এবং সাইনবোর্ড কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে ভেঙে দিয়েছে।
মো. হাশিম চৌধুরী নামে এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, ক্রয়সূত্রে ১.৬০ শতক জমির মালিক হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন, যার সপক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনও রয়েছে। তবে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জমি দখলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কেইপিজেডের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, "সরকার শিল্পায়নের জন্য কেইপিজেডকে ভূমি বরাদ্দ দিয়েছে। একটি নির্দিষ্ট দাগের জমি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।"
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে।
তিনি বলেন, "একটি যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে।"
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার প্রায় ২ হাজার ৪৯২ একর জমিতে কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সীমানা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে।
গত বছরের ৭ মে-ও একই ইস্যুতে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটেছিল বলে জানা গেছে।