আনোয়ারায় কিশোরী ধর্ষণঃ পুলিশের গড়িমসিতে ৮ দিনেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধন আজ
পুলিশের নিস্পৃহতা ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার (৬ মে) রায়পুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজারে এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা।
ধর্ষণে অভিযুক্ত চার আসামীর ছবি | ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারা উপজেলার রায়পুরে এক কিশোরীকে দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৮ দিন অতিবাহিত হলেও আসামিদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শুরু থেকেই পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং মামলা নিতে গড়িমসি করার অভিযোগ ওঠায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৭ এপ্রিল রাতে পাশবিক এই নির্যাতনের শিকার হওয়া কিশোরীর পরিবার ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণে অনীহা দেখায়।
ক্ষমতার প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পুলিশ ৪ দিন পর্যন্ত মামলাটি ঝুলিয়ে রাখে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে ঘটনার ৪ দিন পর শুক্রবার রাতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশের এই নেতিবাচক ও বিলম্বিত ভূমিকা অপরাধীদের আত্মগোপনে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। সেখানে তার ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, মূল অভিযুক্ত আবু তাহেরের ভাই শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব গাজী নাছির উদ্দীন জনৈক রাজনৈতিক নেতার প্রভাব খাটিয়ে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে এই জঘন্য অপরাধ করে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় রায়পুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশের নিস্পৃহতা ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার (৬ মে) রায়পুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজারে এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা।
আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে ঘটনার এত দিন পরেও কেন কেউ গ্রেপ্তার হলো না, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল রাতে আবু তাহের নামের এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে দোকানের ভেতর আটকে রেখে ভোররাত পর্যন্ত ধর্ষণ করে। পরে রবিউল হোসেন, মো. ফারুক ও আনোয়ার হোসাইন নামে তিন যুবক বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরীকে উদ্ধারের পরিবর্তে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের বিলে নিয়ে পুনরায় সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।