আনোয়ারায় সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন থামছে নাঃ হুমকিতে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাসস্থান
গত ৮ এপ্রিল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে।
ফাইল ছবি | ফটো: সংগৃহীত
আনোয়াারায় স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে সাঙ্গু নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ ইছাখালী, বাইন্নার দিঘী, গোদারপাড়, বারখাইন এবং কানু মাঝির হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী স্থানে অবৈধভাবে বালুর বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে প্রতি রাতে ড্রেজার ও বাল্কহেড দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে তীরে স্তূপ করা হয় এবং রাতের আঁধারেই তা ট্রাকে করে পাচার করা হয়, যা এখন ওই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি দুষছেন উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্তাদের যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইশারায় এবং উদাসীনতায় আনোয়ারার জীব বৈচিত্র্য ও তাদের বাসস্থান আজ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন সাধারণত দিনের বেলায় অভিযান পরিচালনা করে, কিন্তু বালু খেকোরা সক্রিয় থাকে মূলত রাতে।
ফলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আসার আগেই ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলো নদী থেকে পালিয়ে যায়। মাঝেসাঝে কিছু বালু জব্দ বা নামমাত্র জরিমানা করা হলেও, অভিযান শেষ হওয়ার পর ওই রাতেই বা পরের দিন থেকে আবারও পুরোদমে বালু উত্তোলন শুরু হয় এবং প্রতিদিন এলাকা থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক বালু পাচার হয়ে যাচ্ছে।
তবে দক্ষিণ ইছাখালীতে বালুর স্তূপের মালিক জাহিদুল ইসলাম নদী থেকে বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি সাতকানিয়া থেকে বালু কিনে এনে এখানে স্তূপ করে বিক্রি করছেন।
সাঙ্গু নদী থেকে এভাবে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও নদী বিশেষজ্ঞ ড. মনজুরুল কিবরিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, নদী থেকে যত্রতত্র বালু তোলার ফলে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হয়, জলজ প্রাণীর বাসস্থান ধ্বংস হয় এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য একবার নষ্ট হলে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।
এছাড়া দেশের প্রচলিত বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, জেলা বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোথাও বালু স্তূপ করা সম্পূর্ণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন জানান, আনোয়ারার সাঙ্গু নদীর কোথাও বালু উত্তোলন বা স্তূপ করার কোনো বৈধ অনুমতি প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, গত ৮ এপ্রিল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে।
নদীর তীরে জমে থাকা বালুর স্তূপগুলো অন্য কোনো অঞ্চল থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।