ক্ষোভে ফুঁসছে আনোয়ারা-বাঁশখালীবাসী, তৈলারদ্বীপ সেতুতে আবারও টোল আদায়ের পাঁয়তারা!
সেতুটি ব্যবহারকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তৈলারদ্বীপ সেতু | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
দীর্ঘ আড়াই বছর টোলমুক্ত থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার সংযোগস্থল সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুতে আবারও ইজারা কোটেশন আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ।
গত মঙ্গলবার এই ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে সেতুটি ব্যবহারকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আড়াই বছর পর পুনরায় টোল আদায়ের এই প্রশাসনিক উদ্যোগে স্থানীয় যাতায়াতকারীদের মধ্যে নতুন করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫১২ মিটার দৈর্ঘ্যের এই তৈলারদ্বীপ সেতুটি ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তখন থেকেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইজারার মাধ্যমে এই সেতু থেকে নিয়মিত টোল আদায় করে আসছিল।
তবে সেতুর দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটারের কম হওয়ায় এটি টোলমুক্ত করার দাবিতে গত ৫ বছর ধরে আনোয়ারা ও বাঁশখালীর বাসিন্দারা একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে আসছিলেন।
সেতুটির টোল আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র ও রাজনীতিক মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সেতুটি টোলমুক্ত রাখার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত তখন টোল আদায় স্থগিতের আদেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সেতুটি পুরোপুরি টোলমুক্ত রাখা হয়।
দীর্ঘ আড়াই বছর টোলমুক্ত থাকার পর হঠাৎ করে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন করে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় সেতু ব্যবহারকারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাস চালক রবিউল হোসেন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকেই টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে যানবাহনের মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল।
সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে তৈলারদ্বীপ সেতুটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত রাখার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।