বিশ্ববাজারে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকলেও সরকার কেন বাড়াল?
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে কমতির দিকে থাকলেও বাংলাদেশে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম।
তেলের অপেক্ষায় মোটরচালকদের পাম্পে ভীড় | ফটো: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে কমতির দিকে থাকলেও বাংলাদেশে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে গণপরিবহনে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটার ১১৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে। এছাড়া ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের প্রতি লিটারের মূল্যও ৯৪ দশমিক ১০ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে দেশের বাজারে এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং আজ সোমবার থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র দেড় মাসের মাথায় আবারও এভাবে দাম বাড়ানোয় সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা গেছে।
এদিকে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে ‘বাজেট ব্যবস্থাপনা’র অজুহাত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল তখনও সরকার দেশে দাম বাড়ায়নি। স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ খাতসহ সব সেক্টরকে সচল রাখতেই ভর্তুকি কমিয়ে এই রি-অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে অথচ মানুষের আয় বাড়েনি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ডিজেলের দাম না বাড়লেও পেট্রোল-অকটেন বাড়ার প্রভাব সবক্ষেত্রে পড়বে। এই সুযোগে পরিবহন মালিকরা যাতে ভাড়া না বাড়ায়, সেদিকে সরকারকে কঠোর নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সূত্রঃ বিবিসি