বটতলীতে কোটি টাকার জমি দখলের পাঁয়তারা; ১ জন আটক, পরে মুক্তি
ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আদালতের সুনির্দিষ্ট ১৪৪ ধারা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী মৌজায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
গত ৬ জুন (শনিবার) বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাটের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। পরে থানায় নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে আর এমন বেআইনি কাজ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান তিনি।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বটতলী মৌজার আরএস ১৮৯০/১৮৯১ এবং বিএস ৩৮৮৮/৩৮৮৯ দাগাধীন প্রায় ৫১ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
জমির প্রকৃত মালিক অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন আহমদ চৌধুরীর অভিযোগ, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত এই জমিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। তবে তাঁর এক ভাই একই দাগ নম্বর উল্লেখ করে ভিন্ন অংশের জমি দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করেই দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় একটি শক্তিশালী চক্রের যোগসাজশে এই মূল জমিটি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন।
উক্ত জমি জবরদখল ঠেকাতে অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন আহমদ চৌধুরী বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই বিরোধপূর্ণ জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। আদালতের এই কঠোর নির্দেশের পরও দেলোয়ার হোসেন একাধিকবার জমিটি দখলের চেষ্টা চালান।
সর্বশেষ গত শনিবার সেখানে বালু ভরাট শুরু করলে ভুক্তভোগী পরিবারের খবরের ভিত্তিতে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দেলোয়ারকে আটক করে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বলেন, “মূলত আমার আইনজীবীর ভুল পরামর্শে আমি জমিতে মাটি ভরাট করতে গিয়েছিলাম। এই বিষয়ে আমি নিজের ভুল স্বীকার করে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়েছি।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে দেলোয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় এবং আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় ওই জমিতে আর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না এই মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে।