চাতরী চৌমুহনীর জলাবদ্ধতা; উন্নয়নের নামে জনভোগান্তি
চাতরী চৌমুহনীকে এই অসহনীয় অচলাবস্থা থেকে মুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এটাই আজ সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি।
ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আনোয়ারা উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাতরী চৌমুহনীতে গত পাঁচ দিন ধরে যে নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পয়েন্ট এবং শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিকের যাতায়াতের প্রধান পথটি আজ নর্দমার নোংরা পানিতে একাকার হয়ে আছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দিয়ে সেখানে যে 'উন্নয়ন' কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাতরী চৌমুহনীতে প্রায় ৫৮৪ কোটি টাকার বিশাল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, সড়কের বড় একটি অংশ ঢালাই করা হলেও সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ড্রেন ছাড়া সড়ক নির্মাণের এই আত্মঘাতী পরিকল্পনা প্রকৌশলগত ত্রুটি নাকি চরম অবহেলা সেই প্রশ্ন এখন আনোয়ারার সাধারণ মানুষের। ড্রেনবিহীন সড়কের উন্নয়ন মানেই হলো কৃত্রিম জলাবদ্ধতাকে আমন্ত্রণ জানানো, যা এখন কেইপিজেড ও সিইউএফএল-এর হাজার হাজার কর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক বিভাগের (সওজ) দাবি অনুযায়ী, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের বাধার কারণে তারা নালা তৈরি করতে পারছে না। যদি তাই হয়, তবে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের শক্তি কোথায়? মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের বাণিজ্যিক স্বার্থ কি কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগের চেয়েও বড়? প্রশাসনের এই অসহায়ত্ব কিংবা রহস্যজনক নীরবতা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যখন কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা আসে, তখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার প্রশাসনের রয়েছে। কিন্তু চাতরী চৌমুহনীর ক্ষেত্রে আমরা কেবল দায়সারা অজুহাত ও সমন্বয়ের অভাবই দেখতে পাচ্ছি।
একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রের প্রাণপ্রবাহ সচল রাখতে হলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কিন্তু চাতরী চৌমুহনীর বর্তমান পরিস্থিতি কেবল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই তৈরি করেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও স্থবির করে দিচ্ছে। পচা পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে মানুষ যেমন চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি সড়কটির স্থায়ী ক্ষতিও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
আমরা মনে করি:
° অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পাম্পের মাধ্যমে বা বিকল্প পথে জমে থাকা পানি সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
° কোনো প্রভাবশালী মহলের তোয়াক্কা না করে দ্রুত ড্রেনেজসহ পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে।
° প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে জনস্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।
উন্নয়ন মানে কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের স্বস্তি। চাতরী চৌমুহনীকে এই অসহনীয় অচলাবস্থা থেকে মুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এটাই আজ সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি।