ছুটির দিনে ঘুরে আসুন আনোয়ারার দৃষ্টিনন্দন 'ফুলতলী সমুদ্র সৈকত'
এখানকার সূর্যাস্ত অত্যন্ত মনোরম। সন্ধ্যা নামলে রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে গান আর আড্ডায় মেতে ওঠেন পর্যটকরা। রাতের সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
বৃষ্টির আগমুহূর্তে ফুলতলী সমুদ্র সৈকত | ফটো: সংগৃহিত
সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে এক চিলতে প্রশান্তি খুঁজছেন? তবে এই শুক্রবার আপনার গন্তব্য হতে পারে চট্টগ্রামের আনোয়ারার ফুলতলী সমুদ্র সৈকত। সাগরের গর্জন, ঝাউবনের স্নিগ্ধতা আর গোধূলির মায়াবী আলোয় নিজেকে সতেজ করে নিতে এর জুড়ি নেই। বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই সৈকত।
ফুলতলী সৈকতের বর্তমান রূপটি বেশ নাটকীয়। ২০১৭ সালের ঘূর্ণিঝড় 'মোরার' সময় 'ক্রিস্টাল গোল্ড' নামক একটি জাহাজ পারকি সৈকতে আটকা পড়লে ফুলতলীর স্রোতের গতিপথ বদলে যায়। পরবর্তীতে বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত রঙিন ছাউনি, লাল টিনশেড ও কাঠের রেলিং দেওয়া বসার স্থানগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মূলত এর পর থেকেই সারা দেশের পর্যটকদের নজরে আসে এই সৈকত।
সময়ঃ
সকালে ভিড় কম থাকে। চা হাতে নিয়ে সাগরের নির্জনতা উপভোগ করার জন্য এটি সেরা সময়। দুপুর ৩টার পর থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকত। ভাটার সময় ফুটবল খেলা, ভেজা বালিতে হাঁটা কিংবা সাগরের লোনা জলে গা ভাসানোর আনন্দই আলাদা।
সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যার মনোরম পরিবেশঃ
এখানকার সূর্যাস্ত অত্যন্ত মনোরম। সন্ধ্যা নামলে রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে গান আর আড্ডায় মেতে ওঠেন পর্যটকরা। রাতের সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
খাবারঃ
খাবার নিয়ে এখানে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। পর্যটকদের জন্য রয়েছে নান্দনিক নির্মাণশৈলীর 'রাজকুটির' রেস্টুরেন্ট। কাচ্চি, চিকেন বিরিয়ানি, বারবিকিউ, গ্রিল এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সামুদ্রিক কাঁকড়া ও চিংড়ি ফ্রাই পাওয়া যায়।
রাজকুটিরের পেছনে বিশাল দীঘি রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে গোসল ও প্যাডেল বোট চালানোর ব্যবস্থা আছে। শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা। এছাড়াও উত্তর পাশে ইবাদতখানা এবং ওজু-এস্তেঞ্জার ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের জন্য তাবু টাঙিয়ে নামাজ পড়ার সুবিধাও আছে।
যেভাবে যাবেনঃ
ফুলতলী সৈকতে যাওয়ার প্রধান তিনটি রুট হলোঃ
১. কর্ণফুলী ব্রিজ হয়েঃ ব্রিজ থেকে ২৫ টাকা বাস ভাড়ায় 'চাতুরী চৌমুহনী' নেমে সিএনজিতে সরাসরি ফুলতলী (ভাড়া লোকাল ৫০ টাকা)।
২. কর্ণফুলী টানেল হয়েঃ টানেল পার হয়ে 'দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়' নেমে সিএনজিতে 'সেন্টার' হয়ে ফুলতলী (মোট ভাড়া ৫০ টাকা)।
৩. বটতলী মাজার হয়েঃ বটতলী থেকে সিএনজিতে 'গুদারপাড়া রাস্তার মাথা' নেমে খাইরিয়া মাদ্রাসার পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে বা অটোতে যাওয়া যায়।
কিছু জরুরি সতর্কতাঃ
ভ্রমণ আনন্দদায়ক করতে কিছু সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সৈকতের বড় পাথরের ব্লকগুলো পিচ্ছিল হতে পারে, তাই ব্লকের ওপর দিয়ে সৈকতে নামবেন না বা ছবি তুলবেন না। জোয়ারের সময় পানির স্রোত বেশি থাকলে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এলাকা ত্যাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসের প্রতি সতর্ক থাকুন।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর সাগরের বিশালতায় মন জুড়াতে আজই পরিকল্পনা করুন ফুলতলী ভ্রমণের!