ধর্ষককে বাঁচাতে ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব, ঘটনার কয়েকদিন পরও আসামি ধরতে ব্যর্থ পুলিশ
এরই মধ্যে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরের ভাইয়ের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, যা পুরো ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
ধর্ষণে অভিযুক্ত চার আসামীর ছবি | ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারা উপজেলার হাড়িয়াপাড়ায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও প্রধান আসামি আবু তাহেরসহ অভিযুক্ত ৪ জনের কেউই গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকার দাবি করা হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এরই মধ্যে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরের ভাইয়ের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, যা পুরো ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। রিপোর্ট একুশে পত্রিকার।
গত ২৭ এপ্রিল রাতে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে স্থানীয় একটি মুদি দোকানের ভেতর প্রথম দফায় এবং পরবর্তীতে পাশের একটি বিলে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। ঘটনার পর থেকেই বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘোরে ভুক্তভোগীর পরিবার। অবশেষে গত ২ মে (শনিবার) সকালে আনোয়ারা থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আসামিরা হলেন, আবু তাহের, রবিউল হোসেন ওরফে চুমকিয়া, মোহাম্মদ ফারুক ও আনোয়ার হোসেন।
মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও ঘটনার এতদিন পরও কেউ ধরা না পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
প্রধান আসামী আবু তাহেরের ভাই গাজী নাছির যিনি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব।
মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরের ভাই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব গাজী মো. নাছির উদ্দীন সম্প্রতি একুশে পত্রিকাকে দেওয়া এক মুঠোফোন আলাপে ভাইয়ের কঠোর বিচার দাবি করেছেন। তিনি এও দাবি করেন যে, এ ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি থানায় কোনো যোগাযোগও করেননি। কিন্তু তার দাবী ধোপে টেকেনি যখন একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি থানায় তাকে দেখে ফেলে। রিপোর্ট একুশে পত্রিকার। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পূর্ববর্তী সময়ে নাছির উদ্দীনকে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ভাইসহ থানায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ঘটনার শুরু থেকে নীরব থাকা এবং মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার পর, এখন জনরোষের মুখে পড়ে নাছির উদ্দীন নিজেকে বাঁচাতে ‘কৌশলী’ অবস্থান নিয়েছেন। মুখে বিচারের কথা বললেও তিনি মূলত আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর থেকেই মামলা না করার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল থেকে তাদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করা হয়। যার ফলে ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। চার দিন বিচারের দরজায় ধাক্কা খাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত শনিবার মামলা নেওয়া হলেও আসামিরা এখনো অধরাই থেকে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, আসামিপক্ষ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। থানায় প্রভাবশালীদের আনাগোনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন, "অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ধরনের নৃশংস অপরাধে জড়িত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।" তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিদের অবস্থান শনাক্তে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এলাকাবাসীর দাবী, ধর্ষকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রভাবশালীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক তদবির যেন এই মামলার তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আনোয়ারা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।