গণরায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্ণফুলীতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, জনগণ পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে গণভোটের গণরায় যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে।
কর্ণফুলীতে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল ও সমাবেশ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কর্ণফুলী উপজেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। গণমিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মনির আবছার চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, জনগণ পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে গণভোটের গণরায় যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে। তিনি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক নুরুল হক বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে ভিন্নমত ও বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্ণফুলী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আবরার, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলার সাহিত্য সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ এবং কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হারুন।
বক্তারা বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মাহবুব আলী, ইলিয়াছ মেম্বার, আব্দুর রহমান, ডা. ইলিয়াস, মনজুর আলম, জিয়াউর রহমান, মুছা মেম্বার, মোস্তফা আল মাহমুদ ইমরোজ, মাওলানা মুছা ও গিয়াস উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।