ব্রেকিং
কর্ণফুলীতে কোস্ট গার্ডের জব্দ করা ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগ পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে! গণরায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্ণফুলীতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আনোয়ারায় ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ মইজ্জ্যারটেক চেকপোস্টে ১৬ হাজার ৬০০ ইয়াবাসহ একই পরিবারের ৩ জন গ্রেপ্তার ৩৬ জুলাই ২০২৪ঃ ভারতে পালাল হাসিনা, জনতার বাধভাঙা উচ্ছ্বাস আনোয়ারা থেকে শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার দমন-পীড়নের রাজনীতি ফিরলে ছাত্রসমাজ আবারও প্রতিরোধ গড়বেঃ কর্ণফুলীতে শিবির নেতা জাহিন আনোয়ারায় দুই রোহিঙ্গার পেট থেকে মিলল ৯ হাজার ইয়াবা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে আনোয়ারায় ছাত্র-যুব-স্বেচ্ছাসেবকদলের বিক্ষোভ জবি ও ঢাকা কলেজে  ছাত্রদলের হামলার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস কর্ণফুলীতে কোস্ট গার্ডের জব্দ করা ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগ পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে! গণরায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্ণফুলীতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আনোয়ারায় ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ মইজ্জ্যারটেক চেকপোস্টে ১৬ হাজার ৬০০ ইয়াবাসহ একই পরিবারের ৩ জন গ্রেপ্তার ৩৬ জুলাই ২০২৪ঃ ভারতে পালাল হাসিনা, জনতার বাধভাঙা উচ্ছ্বাস আনোয়ারা থেকে শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার দমন-পীড়নের রাজনীতি ফিরলে ছাত্রসমাজ আবারও প্রতিরোধ গড়বেঃ কর্ণফুলীতে শিবির নেতা জাহিন আনোয়ারায় দুই রোহিঙ্গার পেট থেকে মিলল ৯ হাজার ইয়াবা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে আনোয়ারায় ছাত্র-যুব-স্বেচ্ছাসেবকদলের বিক্ষোভ জবি ও ঢাকা কলেজে  ছাত্রদলের হামলার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস
অপরাধ ব্রেকিং

কর্ণফুলীতে কোস্ট গার্ডের জব্দ করা ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগ পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে!

নিজস্ব প্রতিবেদক ৬ আগস্ট ২০২৬ রাত ১২:১২ সময়

ঘটনাটি ঘিরে শুধু সরকারি আলামত আত্মসাতের অভিযোগই নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা জব্দ মালামালের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কর্ণফুলীতে কোস্ট গার্ডের জব্দ করা ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগ পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে!

জব্দকৃত সার ও মিনি ট্রাক | ফটো: নয়া দিগন্ত

মিয়ানমারে পাচারের সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে জব্দ হওয়া সরকারি আলামত হিসেবে সংরক্ষিত ৪৫০ বস্তা ডিএপি সারের একটি অংশ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, জব্দ করা সারের মধ্যে থেকে গোপনে ৯০ বস্তা বিক্রি করা হয়। পরে এর একটি অংশ বহনকারী একটি মিনি ট্রাক আটকের পর বিষয়টি সামনে আসে।

ঘটনাটি ঘিরে শুধু সরকারি আলামত আত্মসাতের অভিযোগই নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা জব্দ মালামালের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোস্ট গার্ডের অভিযানে উদ্ধার করা সারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গুদামজাত করার আগ পর্যন্ত একটি কার্গো বোটে সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ের মধ্যেই ধাপে ধাপে সেখান থেকে কিছু সার বের করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পতেঙ্গা থানার কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর, দ্বিতীয় কর্মকর্তা এএসআই শম্ভু নাথ এবং রাঙ্গাদিয়া ও কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল আলাউদ্দিনের যোগসাজশে জব্দ করা সারের ৯০ বস্তা কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা এলাকার এক ব্যবসায়ী মো. মনিরের কাছে বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে কনস্টেবল আলাউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরে ওই সার মিনি ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়ার সময় কর্ণফুলী থানার শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শফি উল্লাহ অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ ৫০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেন। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৎপরতা শুরু হয়।

পরবর্তীতে কর্ণফুলী থানায় মনির ও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলা দায়েরের আগে রেজাউল করিমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কোস্ট গার্ডের জব্দ করা ৪৫০ বস্তা সার গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পাহারার দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং জব্দ তালিকার সঙ্গে বর্তমানে সংরক্ষিত সারের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়েছে কি না। অভিযোগকারীদের মতে, যদি সত্যিই ৯০ বস্তা সার বাইরে চলে গিয়ে থাকে, তাহলে তা এককভাবে সম্ভব নয়; বরং দায়িত্বে অবহেলা কিংবা সংঘবদ্ধ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় প্রায় ২২ হাজার ৫০০ কেজি (৪৫০ বস্তা) ডিএপি সার এবং একটি কার্গো বোট জব্দ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধার করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ওই অভিযানে ২৩ জনকে আটক করা হয় এবং এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই জব্দ করা সারের একটি অংশ বিক্রির অভিযোগ ওঠায় পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি আলামত থেকে কোনো অংশ আত্মসাৎ হয়ে থাকলে তা শুধু চুরি নয়, বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার শামিল হতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর। তিনি বলেন, "সারগুলো যেভাবে জব্দ করা হয়েছিল, সেভাবেই সংরক্ষিত রয়েছে। বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী বলেন, "জব্দ করা সার বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে মনির ও রেজাউল করিমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে জব্দ তালিকা, আলামত সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ডিউটি রোস্টার, কার্গো বোটের পাহারার নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, ট্রাক পরিবহনের গতিপথ এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের তথ্যও যাচাই করা প্রয়োজন। এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হলে সরকারি আলামত আত্মসাতের অভিযোগের বাস্তবতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত

ট্যাগ: #সার #কর্ণফুলী #কোস্টগার্ড
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
* চিহ্নিত তথ্য আবশ্যক। অশালীন মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।