জবি ও ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস
হামলায় জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক, জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসে শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভ, কয়েকজন শিক্ষক এবং সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ক্যাম্পাসগুলোতে হামলা ছাত্রদলের | ফটো: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা কলেজে পৃথক ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জকসুর প্রতিনিধি, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এই প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জকসু, ছাত্রশক্তি ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ক্যাম্পাসজুড়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদকের ধারণকৃত ভিডিও ও স্থিরচিত্রেও হামলার সময় কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন জকসুর প্রতিনিধিরা। এ সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হামলায় জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক, জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসে শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভ, কয়েকজন শিক্ষক এবং সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে সুহায়েল আহমেদ, মোহন খন্দকার, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রজব আল ফাহিম, কামরুজ্জামান কায়েস ও জুয়েল মিয়ার নাম জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. রিফাত হাসানও আহত হন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রশিবিরের নেতাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার কাজ চলাকালে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক গুরুতর আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ঢাকা কলেজে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে ছাত্রশিবিরের সদস্য ফজলুল হক ফরহাদকে মারধর করে আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের পৃথক ঘটনায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত এসব ঘটনার পর আবারও দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।