ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি হত্যার তীব্র নিন্দা জানালেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
ফটো: সংগৃহিত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সাথে জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে দেওয়া অপর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য উপলক্ষ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানান ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
বৈঠককালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার শতাব্দী-প্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক সহজতর করার ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। এই চুক্তি ইরানের জনগণ ও বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান অর্জনে সব পক্ষ ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। বৈঠক শেষে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ইরানি স্পিকার গালিবাফকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার এবং সেখানে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনিকে বোমা ফেলে হত্যার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ শোক জানালেও, একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় ‘নিন্দা’ না জানানোয় তখন বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।