‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান, আজ পবিত্র হজ্ব
এ বছর বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরব যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন।
ফটো: সংগৃহীত
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৌদির ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। আজ ৯ জিলহজ পবিত্র হজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রায় ১৮ লাখ হাজি আজ মক্কা নগরীর জাবালে রহমত পাহাড়ের চূড়া থেকে শুরু করে পুরো আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন।
তীব্র গরম উপেক্ষা করে আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের আশায় রোদনভরা কণ্ঠে হাজিরা এক আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করছেন। পুরুষ হাজিদের পরনে রয়েছে সেলাইবিহীন দুই খণ্ড সাদা এহরামের কাপড়। আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা এই ময়দানেই অবস্থান করবেন, যেখানে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
আজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শাইখ আলী আল হুজাইফি। আরবি ভাষায় দেওয়া তাঁর এই খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ২০টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনানোর বিশেষ ব্যবস্থা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
খুতবা শেষে তাঁর ইমামতিতেই হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাত ময়দান ত্যাগ করবেন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন এবং শয়তানকে মারার জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করবেন।
আগামীকাল ১০ জিলহজ সৌদিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। হাজিরা ফজরের নামাজ শেষে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন করে মক্কা শরীফে গিয়ে কাবার প্রধান তাওয়াফ (তাওয়াফ আল ইফাদা) সম্পন্ন করবেন। পরবর্তীতে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে পাথর মেরে এবং বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পুরো আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।
উল্লেখ্য, ইসলামের অন্যতম প্রধান এই স্তম্ভ পালনে এ বছর বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরব যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন।