শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দশম শাহাদাত বার্ষিকী আজঃ শোকে ও শ্রদ্ধায় স্মরণ
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী | ফটো: সংগৃহিত
আজ ১১ মে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দশম শাহাদাত বার্ষিকী।
২০১৬ সালের এই দিনে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। দশম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা নিজামী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন এবং পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ২০০০ সালে দলটির আমীর নির্বাচিত হন।
মাওলানা নিজামী পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সরকারের কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মন্ত্রীত্বকালীন সময়ে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
আমেরিকার বিখ্যাত সংস্থা “দ্য রয়েল ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার” প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের মধ্যে মাওলানা নিজামী অন্যতম ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডের ‘চেথম হাউজ’ এবং সৌদি আরবের ‘রাবেতা আল আলম আল ইসলামী’র সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ইসলাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
শহীদ মাওলানা নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী তাঁকে একজন ‘আদর্শ স্বামী ও পিতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বড় ছেলে ড. নাকিবুর রহমান এবং বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ব্যারিস্টার মোমেন জানান, কারাকর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাওয়া বাবার চশমা ও ঘড়ি তাঁর কাছে অমূল্য আমানত। শাহাদাতের আগে সন্তানদের উদ্দেশ্যে লিখে যাওয়া ওসিয়তনামায় তিনি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং মায়ের সেবা করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃবৃন্দ মাওলানা নিজামীকে ‘ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে এই প্রহসনের বিচার করা হয়েছিল। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও মুসলিম দেশগুলো সে সময় তাঁর ফাঁসি কার্যকর না করার অনুরোধ জানিয়েছিল।
আজকের এই দিনে তাঁর অনুসারীরা তাঁর রেখে যাওয়া দ্বীনি আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর অটল থাকার শপথ গ্রহণ করছেন।