সরকারহাটে লোহা-হাতুড়ির টুং-টাং শব্দঃ দম ফেলার ফুসরত নেই কামারদের
সরকারহাট কাঁচাবাজারের কামার দোকানটি এখন লোহা-হাতুড়ির চেনা টুং-টাং শব্দ এবং শান দেওয়ার মেশিনের আওয়াজে মুখরিত।
সরকার হাটে কামারদের ব্যস্ততা তুঙ্গে! | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন বাকি। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি তৈরিতে এখন ব্যস্ততার তুঙ্গে চট্টগ্রামের আনোয়ারার ঐতিহ্যবাহী সরকারহাটের কামার কারিগরেরা।
উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের সরকারহাট কাঁচাবাজারের কামার দোকানটি এখন লোহা-হাতুড়ির চেনা টুং-টাং শব্দ এবং শান দেওয়ার মেশিনের আওয়াজে মুখরিত।
বছরের অন্য সময় অলস বা কম ব্যস্ত সময় পার করলেও কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারহাটের এই একমাত্র কামারশালায় এখন রাত-দিন সমানতালে জ্বলছে লোহা পোড়ানোর আগুন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সরকারহাটের কামার দোকানটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নতুন লোহার সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে দোকানটিতে ক্রেতারা উপচে পড়া ভিড় করছেন।
কামাররা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার কয়লা, লোহা ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জাম তৈরির খরচ কিছুটা বেশি পড়ছে। বাজারে এখন লোহা ও আকারভেদে প্রতিটি দা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় ছুরি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোট চাকু ৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং হাড় কাটার ভারী চাপাতি ২০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিচ্ছেন কারিগরেরা।
কোরবানির ঈদের এই বিশেষ মৌসুমকে ঘিরেই মূলত সরকারহাটের কামারদের সারা বছরের ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
দোকানের কারিগরেরা আরো জানান, ঈদের আগের রাত (চাঁদ রাত) পর্যন্ত এই ব্যস্ততা ও কেনাকাটার ধুম বজায় থাকবে। কয়লা ও কাঁচামালের চড়া দামের কারণে কিছুটা হিমশিম খেতে হলেও উৎসবের এই সময়ে সরকারহাটের একমাত্র দোকান হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কারণে বেশ ভালো বিক্রির আশা করছেন স্থানীয় কামার ও দোকান মালিক।