স্বনির্ভর দেশ গড়তে খাল খনন কর্মসূচি হবে নতুন বিপ্লবঃ বাসসকে এ্যানী
সাক্ষাৎকারে সরকারের ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা, খাল পুনঃখননের অগ্রগতি এবং আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন মন্ত্রী।
ফটো: বাসস
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর শুরু করা খাল খনন কর্মসূচিকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে দেশকে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।
সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে সরকারের ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা, খাল পুনঃখননের অগ্রগতি এবং আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন মন্ত্রী।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, খাল খনন কেবল অবকাঠামোগত কাজ নয়, এটি অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৃহৎ কর্মসূচি। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে দেশের বহু খাল পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় দখলের শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই খালগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষিতে সেচ সুবিধাও বাড়ছে। তার ভাষায়, এটি শুধু পানি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং গ্রামভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণেরও অংশ।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কত কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হবে, তা হিসাব করেই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি জেলায় প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বলেও জানান তিনি। আগামী ১৬ মে চাঁদপুর সফরেও নতুন কার্যক্রমের সূচনা হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা নতুন করে খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা এই কর্মসূচিকে গণআন্দোলনের রূপ দিতে কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রকল্পের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণ সরাসরি কাজে অংশ নেওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের আয় বাড়ছে এবং সেই অর্থ স্থানীয় বাজারে প্রবাহিত হয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করছে। একই সঙ্গে খালে মাছ চাষ এবং খালের পাড়ে ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে। অতীতে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে রপ্তানি সক্ষমতা অর্জন করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার আবার সেই অবস্থানে ফিরতে চায়।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত গভীর নলকূপ ব্যবহারের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।
খাল দখলকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এ্যানী বলেন, বহু খাল দখল করে সেখানে মার্কেট ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। শিল্পবর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের কারণে অনেক খাল দূষিত হয়ে পড়েছে। সরকার খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দখলমুক্ত করার কাজও শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আইনি জটিলতা থাকলেও প্রয়োজনে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। খাল সচল হলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।