তৈলারদ্বীপে ১২৯তম বৈশাখী মেলা ও বলিখেলা কাল, গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ
মোগল আমলের প্রভাবশালী জমিদার এরশাদ আলী সরকার তাঁর জমিদারির বার্ষিক হালখাতা ও 'পুণ্যাহ' অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১৮৯০ সালের দিকে প্রজাদের বিনোদনের জন্য এই মেলা ও বলিখেলার প্রচলন করেন।
তৈলারদ্বীপে ১২৯তম বৈশাখী মেলা ও বলিখেলা কাল, গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
দীর্ঘ ৭ বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে কাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জমিদার এরশাদ আলী সরকারের ১২৯তম বৈশাখী মেলা। ২০১৯ সালে করোনা মহামারির কারণে মেলাটি বন্ধ হওয়ার পর গত কয়েক বছর পবিত্র রমজান মাসের সময়সূচির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই বলিখেলা ও মেলার আয়োজন সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ বছর পুনরায় উৎসবটি আয়োজনের সিদ্ধান্তে পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, মোগল আমলের প্রভাবশালী জমিদার এরশাদ আলী সরকার তাঁর জমিদারির বার্ষিক হালখাতা ও 'পুণ্যাহ' অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১৮৯০ সালের দিকে প্রজাদের বিনোদনের জন্য এই মেলা ও বলিখেলার প্রচলন করেন। সেই থেকে বংশপরম্পরায় প্রতি বছর ৪ঠা বৈশাখ তৈলারদ্বীপ সরকার বাড়ি ও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন চলে আসছে। গত মঙ্গলবার জমিদার এস্টেটের এক সভায় এবারের মেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই মেলাকে ঘিরে তৈলারদ্বীপ গ্রামে শত বছরের এক অনন্য সামাজিক রীতি আজও টিকে আছে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, মেলা উপলক্ষে গ্রামের বিবাহিতা মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে 'নাইওর' আসেন। এমনকি বিয়ের সময়ও অনেক পরিবার মেলার দিনে মেয়েকে নাইওরে পাঠানোর শর্ত জুড়ে দেন। জমিদার পরিবারের সদস্য হানিফ মোহাম্মদ এনামুল করিম চৌধুরী জানান, বংশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন উদ্যমে এবার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিতে সর্বস্তরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকরা।