আনোয়ারায় ৪,১৮৯ কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলঃ কাটল এক দশকের জটিলতা, সৃষ্টি হবে লাখো কর্মসংস্থান
ফটো: টিবিএস
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা প্রশাসনিক ও অর্থায়ন জটিলতায় আটকে থাকা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ (সিইআইজেড) অবশেষে আলোর মুখ দেখছে।
আগামী ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের চীন সফর শুরু হওয়ার আগেই এই মেগা প্রকল্পের ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষর এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোর প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামীকাল (১০ জুন) বেজার সঙ্গে বৈঠকে বসছে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগেই চলতি মাসে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডেভেলপার চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে সরকারি (জিটুজি) ভিত্তিতে এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০১৪ সালে সমঝোতা হলেও প্রথমে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও পরবর্তীতে ২০২২ সালে মনোনীত ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি)-এর সাথে চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণে এতদিন প্রকল্পটি আটকে ছিল।
বর্তমানে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। একনেকে উপস্থাপিত নতুন ডিপিপি অনুযায়ী, এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, জেটি-সংযোগ সড়ক ও সেতু, চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো এবং বিশাল পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের ‘প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট’ (পিবিসি) ঋণের আওতায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে আনোয়ারা উপজেলার এই প্রকল্প এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকায় এখানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অত্যন্ত সহজ হবে।
বেপজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, একনেকের অনুমোদন পেলে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হবে। তবে প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ প্লট কারখানা স্থাপনের উপযোগী করা হবে।
বেজা আশা করছে, এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং অন্তত এক লাখ মানুষের বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সূত্রঃ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড