আনোয়ারায় পাহাড়ী ঢল ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কাঃ ভাঙন আতঙ্কে উপকূলবাসী
এদিকে, উপজেলার বৈরাগে ভারী বৃষ্টির কারনে মেরিন একাডেমি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পাহাড়ী ঢল ও আকস্মিক বন্যার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃষ্টিপাতের কারণে শঙ্খ নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নদী তীরবর্তী ও উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলগুলো মারাত্মক প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাসহ ব্যাপক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলার বৈরাগে ভারী বৃষ্টির কারনে মেরিন একাডেমি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো ইতিমধ্যে জলমগ্ন হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উপজেলার জুঁইদণ্ডী, রায়পুর, বারখাইন, বৈরাগ ও হাইলধর ইউনিয়নের শঙ্খ নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো যেকোনো মুহূর্তে পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আকস্মিক এই বন্যা পরিস্থিতির কারণে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও রোপা আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এদিকে সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চতায় বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে এলাকার দুর্বল ও সংস্কারবিহীন বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে যেকোনো সময় লোকালয়ে নোনাপানি ঢুকে পড়তে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন জানান, টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ও উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপর থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় এই অঞ্চলের বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সতর্ক করেছে যে, বৃষ্টিপাত এভাবে অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি ঢল নেমে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে। এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।