দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আনোয়ারায় মৎস্যফাঁড় দখলের চেষ্টা
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব ফাঁড় নিয়ন্ত্রণে নিতে জেলেদের হুমকি দিচ্ছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আনোয়ারায় মৎস্যফাঁড় দখলের চেষ্টা | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আসন্ন ইলিশ মৌসুমকে কেন্দ্র করে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরে ঐতিহ্যবাহী মৎস্য ফাঁড় (মাছ ধরার নির্ধারিত স্থান) জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব ফাঁড় নিয়ন্ত্রণে নিতে জেলেদের হুমকি দিচ্ছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
গত ৪ জুলাই রায়পুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জেলেদের পক্ষে মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম (৩২) নামের এক মৎস্যজীবী এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়পুর ইউনিয়নের উপকূল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাছ আহরণ করে আসছেন স্থানীয় একদল জেলে। মহিউদ্দিন, মো. আকতার, মো. নুর আলম, এয়ার মোহাম্মদ, রফিকুল ইসলাম, মো. নুরুজ্জামান, মো. ইউনুছ, ইউসুফ মোহাম্মদ, মো. জাহিদ ও মোহাম্মদ নবীসহ বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবী বংশানুক্রমিক ও আইনগতভাবে এসব ফাঁড়ের মালিক।
ভুক্তভোগী দিদারুল ইসলামের দাবি, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক তাদের মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো দখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এতে বাধা দেওয়ায় সাধারণ জেলেদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে জোরপূর্বক ফাঁড় দখল কিংবা হুমকির দেওয়ার এসব অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তদের অন্যতম মো. হোসেন প্রকাশ বাঁশি।
পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, মৎস্য ফাঁড় নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে দিদারুল ইসলামদের সঙ্গে থানায় একটি সমঝোতা বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু অপর পক্ষ ওই বৈঠকে অংশ নেয়নি। ফলে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরের মৎস্য ফাঁড় নিয়ে বিরোধ ও হুমকির ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ এবং সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনগতভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।