চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে বিবাহিত ও অছাত্রদের আধিক্য; সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ!
এছাড়া কমিটির বড় একটি অংশ অছাত্র এবং কেউ কেউ সাবেক ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলেও অভিযোগ তুলছেন পদবঞ্চিতরা।
ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিকে বর্ধিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে ৭৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে চরম অসন্তোষ এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নতুন এই বর্ধিত তালিকায় ১৮ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৫৫ জনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট ৪২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন করে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল ওয়াহেদ সুমন, আনিসুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম কাজলসহ ১৮ জন এবং সদস্য হিসেবে এনামুল হক সজীবসহ ৫৫ জন দায়িত্ব পেয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর শাহেদ খাঁন রিপন কমিটি বর্ধিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই অভিযোগ উঠেছে যে, নবঘোষিত কমিটিতে এমন অনেককে স্থান দেওয়া হয়েছে যারা ছাত্রত্বের সীমানা পেরিয়ে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। এছাড়া কমিটির বড় একটি অংশ অছাত্র এবং কেউ কেউ সাবেক ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলেও অভিযোগ তুলছেন পদবঞ্চিতরা।
সবচেয়ে বড় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং হামলা-মামলার শিকার হওয়া 'ত্যাগী' কর্মীদের অবমূল্যায়ন নিয়ে।
অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ফ্রন্টলাইনে ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদেরও এই কমিটিতে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকে ফেসবুকে ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা এডভোকেট নুরুল কবির রানা তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, "কেউ আন্দোলন সংগ্রাম না করেও বড় পদ পায়! কেউ জীবন বাজি রেখে আন্দোলন, সংগ্রাম করেও ছাগলের ৩৩ নম্বর বাচ্চা হয়! এটাই বর্তমান সময়ের রাজনীতি। ফ্যাক্ট: চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল।"
ছাত্রদল কর্মী মুখতার আলী বৈষম্যের অভিযোগ তুলে লিখেছেন, দলের দুঃসময়ে যারা হরতাল-অবরোধে সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের আবারও বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্য এক কর্মী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, "দুই বাচ্চার বাপ, এক বাচ্চার বাপ কিংবা বউয়ের জামাই" ছাড়া যারা কমিটিতে এসেছেন, তাদের অভিনন্দন।"
এমনকি যুবদলের কোনো কোনো কর্মীর টাইমলাইনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
সাধারণ কর্মীদের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে লড়াই করা এবং জেল-জুলুম সহ্য করা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে 'পকেট কমিটি' ভারী করার এই প্রবণতা ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করবে।
অছাত্র ও বিবাহিতদের সরিয়ে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার জন্য তারা কেন্দ্রীয় সংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।