গণরায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করলে তীব্র গণআন্দোলনঃ এটিএম মাসুম
ফটো: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেছেন, "এক শ্রেণীর সুশীল বুদ্ধিজীবী ভারতের জালে ফেঁসে গিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমাদের বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়েছে। এদেশের জনগণ তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।"
শনিবার (১৬ মে) সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর সিলভার প্যালেস কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের (উত্তরাঞ্চল) রুকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা এ টি এম মাছুম তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই এবং তারা বিদেশী প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে দেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক তা চায় না এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় সুনিশ্চিত।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪১ সালে মাত্র ৭৫ জন সদস্য নিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, আজ লাখো কর্মী সেই শপথের আলো নিয়ে এগিয়ে চলছেন। অতীতেও স্বার্থবাদী কায়েমী শক্তি এই সংগঠনের বিরোধিতা করেছে এবং বর্তমানেও করছে। তবে কোনো অপশক্তিই জামায়াতকে তার মূল লক্ষ্য থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুত করতে পারবে না। কর্মীদের আল্লাহ ভীতি ও পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রুকনদের ইলম বা জ্ঞান চর্চার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রুকনদের একজন নীরব সংগঠক হিসেবে ব্যক্তিগঠন ও সংগঠন সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কর্মীদের শুধু বক্তব্য ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; চারিত্রিক সততা, আমানতদারিতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সমাজের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
মহানগর জামায়াত নেতা অধ্যাপক নুরুল আমীন চৌধুরী অভিযোগ করেন, জনগণের দেওয়া গণরায়ের প্রতি সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গণভোটের রায়কে মূল্যায়ন না করলে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হকের সঞ্চালনায় এই শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে দারসুল কুরআন পেশ করেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান। অনুষ্ঠানে জেলার নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমানসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।