কোরবানির আগে শুকনো মরিচ ও হলুদের বাজারে আগুন!
আমদানিকৃত ভারতীয় মরিচের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে।
ফটো: সংগৃহিত
কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র কিছুদিন। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে মাংস রান্নার প্রধান দুই মসলাপণ্য শুকনা মরিচ ও হলুদের বাজার হু হু করে বাড়ছে।
দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন আশানুরূপ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই পচনশীল পণ্য দুটির বাজার আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
তবে কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসতেই আমদানিনির্ভর এই মসলার বাজার আরও বেশি অস্থিতিশীল ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সর্বশেষ বাজার দর অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। অন্যদিকে, ঝাল বাড়াতে আমদানি করা ভারতীয় শুকনা মরিচ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকা।
বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্রটি গত বছরের তুলনায় কতটা ভয়ংকর, তা টিসিবির বিগত বছরের খতিয়ান দেখলেই স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের ঠিক এই সময়ে দেশের বাজারে প্রতি কেজি দেশি শুকনা মরিচের খুচরা মূল্য ছিল ২৫০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং আমদানিকৃত মরিচ বিক্রি হতো ২৮০ থেকে ৪৩০ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশি শুকনা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ থেকে ১১০ টাকা। আর আমদানিকৃত ভারতীয় মরিচের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম এবং আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই হলুদের পাশাপাশি শুকনা মরিচের বাজার ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঈদের আগে এই দুই নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।