কোটি টাকার ইজারা সত্ত্বেও ময়লার ভাগাড় চাতরী চৌমুহনী বাজারঃ প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ জনতা
বাজারের এই নাজুক অবস্থার জন্য প্রশাসনের জবাবদিহিতার অভাবকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
বাজার নয় যেন ময়লার ভাগাড়! | ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারা উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজার চলতি বছরে ১ কোটি ৬ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও এর বিনিময়ে ন্যুনতম নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের পরও পুরো বাজারজুড়ে বিরাজ করছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বাজারের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের অলিগলিতে ময়লার স্তূপ জমে আছে। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় নোংরা পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। বাজারের ক্রেতা মো. বোরহান উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাজারে আসে, অথচ এটি এখন এলাকার সবচেয়ে নোংরা বাজারে পরিণত হয়েছে। ময়লার দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়িয়ে থাকাই দায়।"
ব্যবসায়ী লোকমান সওদাগর জানান, প্রশাসন আন্তরিক হলে এই বাজারটিকে একটি আদর্শ বাজারে রূপান্তর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধু ইজারা আদায়ের দিকেই মনোযোগী, বাজারের নূন্যতম রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে তাদের কোনো নজর নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতিবছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও সেই টাকা বাজারের উন্নয়নে ব্যয় না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়লেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন নির্বিকার।
বাজারের এই নাজুক অবস্থার জন্য প্রশাসনের জবাবদিহিতার অভাবকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, অবিলম্বে একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার না হলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।