নতুন কমিটি ঘোষণা ঘিরে পটিয়ায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৪
দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন বলেন, দীর্ঘদিন মামলা-হামলার শিকার হলেও অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী কমিটিতে স্থান পাননি।
ফটো: সংগৃহিত
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সম্প্রসারিত কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পটিয়ায় সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শান্তিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সম্প্রসারিত কমিটিতে নতুন করে ৭২ জনের নাম ঘোষণা করে। এতে পটিয়া উপজেলা থেকে ১২ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যপদ পান। নতুন পদপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীদের বেশিরভাগই জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে পদবঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মীরা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন-এর অনুসারী বলে জানা গেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শুক্রবার বিকেলে শান্তিরহাট কামাল সেন্টার মার্কেট এলাকায় নবনির্বাচিত পদধারীরা আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নিলে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে জিয়াউল হক-এর নেতৃত্বে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আনন্দ মিছিল কর্মসূচি বাতিল করে শান্তিরহাট মীর সুপার মার্কেট এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতা-কর্মীরা।
তবে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এতে ছাত্রদলের অন্তত চারজন কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে সায়মন, নুরুল ইসলাম ও হাবিবের নাম জানা গেছে। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, সমাবেশ শেষে প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পেট ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন বলেন, দীর্ঘদিন মামলা-হামলার শিকার হলেও অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী কমিটিতে স্থান পাননি। এ কারণে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আনন্দ মিছিল মেনে নিতে পারেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষ এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলেও জানান তিনি।