শিক্ষাবিদ থেকে রাজনীতিবিদঃ অধ্যক্ষ আবু তাহেরের বর্ণাঢ্য জীবন
১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
Jamaat leader Abu Taher | ফটো: BJI website
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, আনোয়ারা উপজেলার কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাহেরের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ মে।
২০২০ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মাওলানা আবু তাহের ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের বড় একটি অংশ কাটে মাদরাসায়। তিনি রায়পুরের ছুন্নাপাড়া মাদ্রাসা, আসাদগঞ্জ ছোবহানিয়া মাদরাসা থেকে প্রাথমিক এবং দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য সাধারণ ধারায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও ১৯৭৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি নবগঠিত ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে আসেন এবং ১৯৮০-৮১ সেশনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছাত্রজীবন শেষে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ ১৪ বছর চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে উন্নীত হন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। ওই সময়ে তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। জীবন বাঁচাতে এক পর্যায়ে তিনি সমুদ্রপথে মিয়ানমারে পাড়ি জমান এবং সেখানে কয়েক বছর নির্বাসিত জীবন কাটান।
পরবর্তীতে সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরে তিনি পুনরায় পড়াশোনা ও প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
অধ্যক্ষ আবু তাহের কেবল রাজনীতিবিদই ছিলেন না, চট্টগ্রামের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের আল-জাবির ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট সদস্য এবং দ্য ডেইলি কর্ণফুলী পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২০ সালের ৯ মে তিনি পরলোকগমন করেন।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শোকবাণী দিয়েছেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের স্মৃতি চারণ করে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।